ক্রিকেটে দুর্নীতির অভিযোগ মেনে নিয়েছেন কয়েকজন: অ্যালেক্স মার্শাল

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। এখন তারা সমঝোতার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণের অপেক্ষায় আছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মার্শাল। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কারা অভিযোগ মেনে নিয়েছেন, তা প্রকাশ করেননি তিনি।
মার্শাল বলেন, ‘আমি আজ কারও নাম বলব না। তাদের কয়েকজন অভিযোগ মেনে নিয়েছেন এবং সমঝোতার মাধ্যমে শাস্তি নির্ধারণ চাইছেন। অন্যদের কেউ কেউ এখনো জবাব দেননি।’
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সাতজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ গঠনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পৃথক ব্যবস্থায় আরও একজনকে সব ধরনের ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামনে কী সুযোগ থাকে, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মার্শাল। তিনি জানান, কেউ অভিযোগ মেনে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ তুলনামূলক কম হওয়ার সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করলে স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী ট্রাইব্যুনালে শুনানি চাইতে পারেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন স্বাধীন আইনজ্ঞরা। দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তির মেয়াদও নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
যারা অভিযোগ মেনে নিয়েছেন, তাদের শাস্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্শাল। তিনি বলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে শাস্তি ঘোষণা হলে আমরা সেই ঘটনার বিস্তারিতও প্রকাশ করি। তখন আপনারা আরও তথ্য পাবেন, কারণ ততক্ষণে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।’
এর মধ্যেই আরও কয়েকটি তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান। আগামী কয়েক সপ্তাহে নতুন ঘোষণার আভাসও দিয়েছেন তিনি।
মার্শাল বলেন, ‘আরও কিছু ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ গঠন হতে পারে।’
তবে চলমান তদন্তগুলো কাদের বা কোন প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তা জানাননি তিনি। তার ব্যাখ্যা, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে গেলে সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। তার আগেই সাক্ষ্যপ্রমাণ কিংবা তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হলে ন্যায্য শুনানির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণেই তদন্তের তথ্য গোপন রাখা হয়।


