বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ শান মাসুদের

বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ভুল ও সুযোগ নষ্টের কথাই সামনে আনলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৩৫৮ রানে অলআউট হয়। ৭৮ রানের হারের পর মাসুদ মনে করিয়ে দিলেন, চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করলেও ম্যাচের আগের অংশগুলোতেই পিছিয়ে পড়েছিল তার দল।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘অনেক ভুল হয়েছে। চতুর্থ ইনিংসে ৩৬০-এর কাছাকাছি রান করলে সাধারণত আপনি ম্যাচের ভালো দিকেই থাকার আশা করেন। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রথম তিন ইনিংসে আমাদের অনেক কিছু ভেবে দেখার আছে।’
মাসুদের চোখে ম্যাচের বড় বাঁক ছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। একসময় ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চার উইকেটে বড় রান তুলে ২৭৮ পর্যন্ত যায় স্বাগতিকরা। পরে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে থেমে গেলে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
সেই জায়গাতেই আক্ষেপ পাকিস্তান অধিনায়কের। তিনি বলেন, ‘ওরা যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল, শেষ চার উইকেট অনেক রান করে ফেলে। আবার আমরা যখন ১৪২ রানে ৪ উইকেটে ছিলাম, টেস্ট ক্রিকেটে সেট ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে হয়।’
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম ৬৮ রান করলেও সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবর ৪৭ রানে ফেরেন। শান মাসুদ করেন ৭১, সালমান আগা ৭১ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪। কিন্তু কেউই ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে পারেননি।
মাসুদ মনে করেন, প্রথম তিন ইনিংসের ভুলের কারণেই চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের লড়াই জয়ে রূপ নেয়নি। তার ভাষায়, ‘প্রথম তিন ইনিংসে আমরা অনেক কিছু যথেষ্ট ভালোভাবে করতে পারিনি। এ কারণেই চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত জয়ে পরিণত হয়নি।’
টেস্ট ক্রিকেটের কঠোর বাস্তবতাও মনে করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আপনি যে ভুলই করুন, তার শাস্তি পেতে হবে। এটা ক্ষমাহীন ফরম্যাট। এখানে সহজ ম্যাচ পাবেন না। ফল পেতে হলে লড়াই করে আদায় করতে হয়।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে পাকিস্তান বারবার ভালো অবস্থানে গিয়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। মাসুদও সেটিই স্বীকার করেছেন। তার কথায়, ‘আমরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছি। হাতে গোনা কয়েকটি টেস্ট ছাড়া খুব কম ম্যাচেই আমরা পুরোপুরি ছিটকে গেছি। বেশির ভাগ টেস্টেই আমরা এমন জায়গায় ছিলাম, যেখানে শেষটা ভালো করতে পারিনি।’
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের শেষ আশা ছিলেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে ১০ চারে ৯৪ রান করেন তিনি। সাজিদ খান ৩৬ বলে ২৮ রান করে শেষ দিকে লড়াই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে তাইজুল ইসলামের ৬ উইকেটের ঘূর্ণিতে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৫৮ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ৩৪.২ ওভারে ১২০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট পান। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে হারার পর সিলেটেও পরাজয়ে পাকিস্তানের সিরিজ শেষ হলো হোয়াইটওয়াশ দিয়ে।
