প্রথমবারের মতো ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ঢাকার মিরপুর থেকে শুরু করে জেলা শহরের চায়ের দোকান—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস হওয়ার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উন্মাদনার। কিন্তু এবার দৃশ্যটা ভিন্ন। মাঠে নয়, পর্দার সামনে বসেই বিশ্বকাপ দেখছে বাংলাদেশ; নিজের দলকে ছাড়াই। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিতর্কের জেরে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে তৈরি করেছে গভীর হতাশা, আর খেলোয়াড়দের সামনে এনেছে এক অপ্রত্যাশিত শূন্যতা।
বিশ্বকাপ ঘিরে পরিকল্পনা করেছিলেন অনেকে। কেউ বিদেশ ভ্রমণের টিকিট কেটেছিলেন, কেউ আগেভাগেই ছুটি নিয়েছিলেন অফিস থেকে। সেই সব পরিকল্পনা এখন বাতিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক অংশ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও বড় একটি অংশ মনে করছে, বিশ্বমঞ্চে না থাকা দেশের ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
ক্রিকেটারদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। গত এক বছরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তুলনামূলক ভালো ছন্দে ছিল দল। প্রস্তুতি, অনুশীলন ও পরিকল্পনা সবই ছিল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। হঠাৎ টুর্নামেন্টের বাইরে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা, বড় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নজরে পড়ার সম্ভাবনা সবই আপাতত থমকে গেছে। দলের ভেতরে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য না এলেও আড়ালে হতাশা যে রয়েছে, সেটি স্পষ্ট।
এই শূন্যতা কাটাতে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখতে দ্রুত একটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট রাখা এবং দর্শকদের জন্য কিছুটা বিনোদনের ব্যবস্থা করা। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চের উত্তেজনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে তার তুলনা চলে না বলেই মনে করছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক।
দেশজুড়ে ক্রিকেট কেবল খেলা নয়, আবেগেরও নাম। তাই বিশ্বকাপের মতো আসরে জাতীয় দলের অনুপস্থিতি সমর্থকদের মনে এক ধরনের অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি করেছে। কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার মনে করছেন, খেলার মাঠের সিদ্ধান্ত মাঠেই থাকাই ভালো ছিল।
ফেব্রুয়ারির এই বিশ্বকাপ তাই বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। উৎসব আছে, কিন্তু নিজের দল নেই; উল্লাস আছে, কিন্তু তাতে মিশে আছে মনখারাপের সুর।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা