তাসকিন-মিরাজের আঘাতে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। পেসারদের জন্য সহায়ক সকালে মেঘলা আকাশ ও পিচে মুভমেন্ট থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়েই পাকিস্তানকে শুরুতে ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ করেন আরও দুটি উইকেট। লাঞ্চে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০ ওভারে ৪ উইকেটে ৯৬ রান।
ক্রিজে আছেন বাবর আজম ও সালমান আগা। বাবর ৫৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত, সালমান ১৫ বলে করেছেন ৬ রান। পাকিস্তানের ইনিংস এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বাবরের ওপর। অন্য প্রান্ত থেকে তাকে কেউ বড় সঙ্গ দিতে না পারলে সফরকারীদের আবারও ব্যাটিং ধসে পড়ার ঝুঁকি আছে।
বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন। পাকিস্তানের স্কোর তখন ২২। ইনিংসের অষ্টম ওভারে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরান তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাট ঝুলিয়ে দেন ফজল, পেছনে ডাইভ দিয়ে নিচু ক্যাচ নেন লিটন দাস। ২১ বলে ৯ রান করে ফিরতে হয় পাকিস্তান ওপেনারকে।
এরপর নিজের পরের ওভারেই আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে আউট করেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের লাইনে গুড লেংথ ডেলিভারি সামান্য সোজা হয়ে আসে, আজান হার্ড হ্যান্ডে খেলতে গিয়ে ভেতরের কানায় প্যাডে লাগান। বল লেগ সাইডে উঠে গেলে সামনে এগিয়ে সহজ ক্যাচ নেন মুমিনুল হক। ৩৪ বলে ১৩ রান করে ফেরেন আজান। পাকিস্তান তখন ২৩/২।
দুই ওপেনার দ্রুত হারানোর পর বাবর আজম ও শান মাসুদ কিছুটা পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। দুজন মিলে আলগা বল কাজে লাগিয়ে রান তুলছিলেন ভালো গতিতে। শানও আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু বড় ইনিংসে যেতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক।
মিরাজ নিজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারেই ভাঙেন বাবর-শান জুটি। শর্ট অব আ লেংথ বল কাট করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান শান। শর্ট কভারে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসান নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন। ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন শান।
এরপর সৌদ শাকিল কিছুক্ষণ রক্ষণে মনোযোগী ছিলেন, কিন্তু আবারও সুইপ শটেই বিপদ ডেকে আনেন। মিরাজের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে বড় সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটের নিচের দিকে লাগে বল, সহজ ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন। ২৮ বলে ৮ রান করে ফিরেছেন শাকিল। ঢাকা টেস্টেও একই ধরনের শটে আউট হয়েছিলেন তিনি।
প্রথম সেশনে তাসকিন ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর পেসার। ৮ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। শরীফুল ইসলাম উইকেট না পেলেও নতুন বলে টানা ভালো লাইন ধরে চাপ তৈরি করেছেন। নাহিদ রানাও গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে রেখেছেন। ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতির কয়েকটি ডেলিভারিতে সৌদ শাকিল ও বাবরকে পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি।
মিরাজও ছিলেন নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর। ৮ ওভারে ১৪ রান দিয়ে তাঁর শিকার ২ উইকেট। বিশেষ করে মাঝের সময়ে তিন মেইডেন ওভার টানা বাংলাদেশের চাপ ধরে রাখে। সেই চাপ থেকেই আসে শান ও শাকিলের উইকেট।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সিলেটে সিরিজ জয়ের পথে এগোতে হলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস দ্রুত থামানো জরুরি। প্রথম সেশন শেষে সেই কাজের ভালো ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছে তাসকিন-মিরাজরা।
