রাহুলের সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় সামলে ভারতের ৩৫১

স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪ রান, এর মধ্যেই সাজঘরে শুভমান গিল ও বিরাট কোহলি। সেখান থেকে ভারতের ইনিংস শেষ হলো ৩৫১ রানে। শুরুতে রোহিত শর্মা ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের প্রতিরোধ, আর শেষদিকে লোকেশ রাহুলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৩৫২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে ভারত।
শনিবার নিউ চণ্ডীগড়ে তিন ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান করে স্বাগতিকেরা। ৮৭ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন রাহুল।
ভারতের শুরুটা অবশ্য ছিল ভয়াবহ।
তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে অধিনায়ক গিলকে ফেরান জেইডেন সিলস। ৬ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন ভারত অধিনায়ক। পরের বলেই আরও বড় ধাক্কা। সিলসের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন বিরাট কোহলি। প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন তিনি। ৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে ভারত।
সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন রোহিত ও ঋতুরাজ।
দুজন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৩৭ রান। একদিকে রোহিত আক্রমণাত্মক ছিলেন, অন্যদিকে ঋতুরাজ খেলেছেন কিছুটা সময় নিয়ে। সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন রোহিত। তবে ২৫তম ওভারে কিমো পলের বলে ৯২ রানে থেমে যান তিনি।
৮৫ বলের ইনিংসে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন রোহিত। মাত্র ৮ রানের জন্য হাতছাড়া হয় সেঞ্চুরি।
রোহিত ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ঋতুরাজও। ৬৯ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৭ রান করে সিলসের তৃতীয় শিকার হন তিনি। ২৮.৫ ওভারে ভারতের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৬০।
এরপরই ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন রাহুল।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই খেললেন ইনিংসের সবচেয়ে বড় ইনিংস। প্রথমে নেমে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেছেন, এরপর শেষ দিকে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন।
নমন ধীরকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৬৫ রান যোগ করেন রাহুল। নমন ২১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩০ রান করে ফিরলেও রাহুলের গতি থামেনি।
৪১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর দ্রুতই রানের গতি বাড়ান ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ছক্কা মেরে ৮০ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার নবম সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রাহুল। শতক থেকে ১২৯-এ যেতে তার লাগে মাত্র ৭ বল। শেষ পর্যন্ত ৮৭ বলে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার স্ট্রাইক রেট ১৪৮.২৮।
মাঝে নীতিশ কুমার রেড্ডি ১৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন। অংশুল কাম্বোজ ৯ বলে দুটি ছক্কায় ১৭ রান করে রানআউট হন। শেষ দিকে গুরনুর ব্রার ৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ ৪.২ ওভারে ভারতের সংগ্রহে যোগ হয় আরও ৬১ রান। ৪৫.৪ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯০ থেকে রাহুলের ঝড়েই ৩৫০ পেরোয় স্বাগতিকেরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার সিলস। ১০ ওভারে ৬২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। কিমো পল ৯ ওভারে ৭১ রান দিয়ে পেয়েছেন দুটি উইকেট। গুদাকেশ মোতি নেন একটি উইকেট।
তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে ভারত। শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এখন করতে হবে ৩৫২ রান।
