logo

৪২১ রানের লক্ষ্য দিয়ে জয়ের পথে অস্ট্রেলিয়া

৪২১ রানের লক্ষ্য দিয়ে জয়ের পথে অস্ট্রেলিয়া
হ্যাজেলউড নেন দুই উইকেট। ছবি: গেটি ইমেজ

জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন আরও ৩১৯ রান, হাতে আছে ছয় উইকেট। ডারবান টেস্টের শেষ দিনের আগে তাই সুবিধাজনক অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করা ম্যাট রেনশ দ্বিতীয় ইনিংসেও খেলেছেন ৮২ রানের ইনিংস। এরপর বল হাতে তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট। তার এমন নৈপুণ্যের সঙ্গে পেসারদের দাপটে প্রোটিয়াদের চাপে রেখেছে প্যাট কামিন্সের দল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ডারবানের কিংসমিডে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০২ রান। ৪২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এইডেন মার্করাম ৪৫ ও উইয়ান মুল্ডার ৫ রানে অপরাজিত আছেন। শেষ দিনে ছয় উইকেট তুলে নিতে পারলেই তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে তৃতীয় দিনের বিনা উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন সফরকারীরা। তবে দলীয় ৪৩ রানে ট্রাভিস হেডকে (১১) ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মার্কো ইয়ানসেন। এরপর ৩৮ বলে ৪৮ রান করা নিক ম্যাডিনসনকে বোল্ড করেন আনরিখ নরকিয়া।

তৃতীয় উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ। স্মিথ ২৭ রানে সাইমন হার্মারের শিকার হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর ৩৭ রান করে কেশব মহারাজের বলে আউট হন লাবুশেন। প্রথম সেশনে চার উইকেট হারালেও দ্রুত রান তোলায় অস্ট্রেলিয়ার লিড পৌঁছে যায় ২৮০ রানে।

এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন রেনশ। ক্যারি ২৪ রান করে নরকিয়ার বলে বোল্ড হলেও রেনশ তুলে নেন ফিফটি। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটার এবার করেন ৮২ রান। শেষ পর্যন্ত মহারাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ক্যাচটি মাটিতে লেগেছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও টেলিভিশন আম্পায়ারের পর্যালোচনায় আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

রেনশ ফেরার পর দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক কামিন্স। মাত্র ১২ বলে চার ছক্কায় অপরাজিত ৩২ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে বিউ ওয়েবস্টার অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩১৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১০৬ রানের লিড মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২১ রান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৭ রানে রায়ান রিকেলটনকে (২) ফেরান জশ হ্যাজলউড। এরপর মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহাম মিলে প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের জুটিতে আসে ৬৬ রান।

তবে ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে থামতে হয় বেডিংহামকে। ৪৬ রান করা এই ব্যাটার হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে জুটি। প্রথম ইনিংসেও ৪৯ রানে থেমেছিলেন তিনি।

এরপর বল হাতে চমক দেখান রেনশ। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে দারুণ অবদানের পর অফ স্পিনে তুলে নেন নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট। তার বলে শর্ট লেগে ম্যাডিনসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।

অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রিস্টান স্টাবসকেও হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১ রান করা স্টাবসকে উইকেটের পেছনে ক্যারির ক্যাচ বানান কামিন্স। ৭৩ রানে ২ উইকেট থেকে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

এরপর দিনের বাকি সময় আর বিপদ বাড়তে দেননি মার্করাম ও মুল্ডার। তাঁদের প্রতিরোধে ৪ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিন শেষ করে প্রোটিয়ারা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজলউড দুটি এবং কামিন্স ও রেনশ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হয় ২৮৪ রানে। সেই ১০৬ রানের লিড কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে সফরকারীরা।