বিপিএল নিয়ে বিসিবিকে সময় দিতে রাজি তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি

চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাড়াহুড়ো করে আরেকটি টুর্নামেন্ট না করে নতুন ও টেকসই কাঠামোয় বিপিএল ফেরাতে চায় বিসিবি। বোর্ডের এই পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছে রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শনিবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠক করেন গত আসরের এই তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিরা। আলোচনায় টুর্নামেন্টের আর্থিক কাঠামো, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি সূচির মতো বিষয় উঠে আসে।
তামিম আগেই জানিয়েছিলেন, গত দুই আসর আয়োজন করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান করেছে বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো লোকসান হওয়ায় বর্তমান ব্যবস্থায় আর বিপিএল আয়োজন করতে চান না তিনি।
বকেয়া পারিশ্রমিক, ব্যাংক গ্যারান্টি ও নিয়ম ভাঙা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সময় নিতে চায় বিসিবি। প্রয়োজন হলে ছয় মাস, এক বছর কিংবা আরও বেশি সময় অপেক্ষা করার কথাও বলেছেন বোর্ড সভাপতি।
বিসিবির অবস্থানের সঙ্গে একমত রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক। তার মতে, শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দায়সারা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কোনো অর্থ নেই।
তিনি বলেন, ‘নামকাওয়াস্তে বিপিএল করার চেয়ে সময় নিয়ে ভালো কাঠামোয় করাই উত্তম।’
ইশতিয়াক জানান, গত আসর শেষ হওয়ার সাত-আট মাস পরও রংপুরের কিছু দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক বাকি রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আগেভাগে চুক্তি করতে বিপিএলের অন্তত পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সূচিও চেয়েছে রংপুর। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলায় দেরিতে দল গঠন করতে গিয়ে মানসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
পুরোনো কাঠামোয় আর বিপিএলে অংশ নিতে আগ্রহী নয় ঢাকা ক্যাপিটালসও। দলটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ বলেন, ‘একই কাঠামোয় আবার বিপিএল হলে ব্যক্তিগতভাবে আমি থাকব না।’
তবে নতুন পরিকল্পনায় বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা আবারও অংশ নিতে চায়। নতুন শর্ত পূরণের প্রস্তুতি নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় দেওয়ার আশ্বাসও পেয়েছে তারা।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সও বিপিএলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পক্ষে। তবে মাঠে ফেরানোর আগে পুরোনো সমস্যার সমাধান এবং সবার জন্য লাভজনক কাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছে তারা।
রাজশাহীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিপিএল বন্ধ হচ্ছে না, সংস্কার হচ্ছে।’
বিপিএল না হলে দেশের অনেক ক্রিকেটার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বিসিবি সভাপতি তামিমের। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পর এবার খেলোয়াড়দের মতামত শুনেই বিপিএলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায় বোর্ড।



