পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না অস্ট্রেলিয়া

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা এগিয়ে গেছে।
১৯৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। পাকিস্তানের স্পিন জালে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে সফরকারীরা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা—যার পুরো সুফল পায় দল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলে পাকিস্তান। দলীয় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক আগা ও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান উসমান খান।
অবশ্য ম্যাচে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ১৭ রানের মাথায় আউট হন সাহিবজাদা ফারহান (৫)। এরপর আগা ও সাইম আইয়ুব জুটি গড়ে তোলেন আক্রমণাত্মক পার্টনারশিপ। ২৩ বলে ২৩ রান করা সাইম ফিরলেও আগা থামেননি। পরের ওভারে মাত্র ২ রান করে বোল্ড হন বাবর আজম।
চাপের মধ্যেও আগা ও সাদাব খান জুটি পাকিস্তানকে আবার ম্যাচে ফেরান। মাত্র ২৫ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন আগা। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা।
শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন উসমান খান। ৩৫ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। শাদাবের সঙ্গে ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। শাদাব করেন ২৮ রান, আর মোহাম্মদ নওয়াজ চার বলে করেন ১০ রানের ক্যামিও।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ক্যামেরন গ্রিন ২০ বলে ৩৫ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার হলেও অন্যরা কেউ দাঁড়াতে পারেননি। ম্যাথু শর্ট করেন ২৭, মিচেল মার্শ ১৮ এবং জেভিয়ার বার্টলেট ১০ রান।
পাকিস্তানের বোলিংয়ে স্পিনাররাই ছিলেন মূল অস্ত্র। আবরার ও শাদাব খান নেন ৩টি করে উইকেট। উসমান তারিক নেন ২টি, আর সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ নওয়াজ পান একটি করে উইকেট।
এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করল পাকিস্তান। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিও অনুষ্ঠিত হবে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেই।