লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় আক্ষেপ লিটনের
-1777744376-15350_1777744391.webp)
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে হেরে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ১৫ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১০২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাস হারের বড় কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন ব্যাটিং ব্যর্থতা, বিশেষ করে নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে রান না পাওয়াকে।
লিটন বলেন, ‘ম্যাচ হারার পেছনে প্রথমত ব্যাটিং। আমরা যদি রান দিতে পারতাম, তাহলে ভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারত। আগের সংবাদ সম্মেলনেও বলেছিলাম, আমাদের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। তারা যদি কিছু ইনপুট দিতে পারে, সেটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজও সেই জায়গা ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।’
বাংলাদেশ একসময় ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান তুলেছিল। তবে বৃষ্টির বিরতির পর ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। লিটনের মতে, তার ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটি আরও বড় হলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তিনি বলেন, ‘আমি আর হৃদয় যদি পার্টনারশিপটা আরও বড় করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের গল্প ভিন্ন হতে পারত। যদি ব্রেক না হতো, আমি যদি ওখান থেকে ক্যাশ ইন করে ৬০-৭০ করতে পারতাম, তাহলে অন্যরকম হতে পারত।’
একাদশের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে লিটন জানান, টি-টোয়েন্টিতে পাঁচজন বোলার নিয়ে খেলতেই হবে। শুধু ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে গিয়ে বোলিং কমিয়ে দিলে দল আরও সমস্যায় পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
লিটনের ভাষায়, ‘টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ বোলার ছাড়া যাওয়া যাবে না। আপনি যদি নয়জন ব্যাটসম্যান নিয়ে যান, তাহলে তিনজন বোলার নিয়ে খেলতে হবে। আপনার কাছে যদি সমাধান থাকে, আমাদের দিতে পারেন।’
সাত নম্বর পজিশন নিয়েও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, ওই জায়গায় এমন ক্রিকেটার দরকার, যিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চার ওভার বোলিং করার সামর্থ্য রাখেন। শেখ মেহেদী, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের কাছ থেকে তাই ব্যাটিং অবদানও চান লিটন।
তিনি বলেন, ‘শেখ মেহেদী ব্যাটিং পারে, কিন্তু সেই পারফরম্যান্সটা আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দরকার। একই কথা নাসুম ও রিশাদের ক্ষেত্রেও। সাইফউদ্দিন, সাকলাইন, সাকিবও আছে। তাদের কাছ থেকে আমরা ব্যাটিং আশা করি।’
১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নিউজিল্যান্ড এক পর্যায়ে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল। শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে ছোট লক্ষ্য, ভালো উইকেট ও ভেজা বলে শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রাখা যায়নি।
লিটন বলেন, ‘টোটালটা খুব বড় ছিল না। উইকেটও খুব ভালো ছিল। আমরা ভেবেছিলাম আরও দুইটা উইকেট বের করতে পারলে চাপ তৈরি করা যাবে। শরীফুল খুব ভালো বোলিং করছিল। কিন্তু ওদের রান রেট কখনো ছয়ের ওপরে যায়নি। এটা যদি সাত-আটে যেত, তাহলে বাড়তি চাপ আসত।’