logo

ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কা— তাই মাঠে নয়, ‘কাচের ঘরে’ সৈকত?

ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কা— তাই মাঠে নয়, ‘কাচের ঘরে’ সৈকত?

ভারতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তুমুল বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই ভারত-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের ভূমিকা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে একবারও অনফিল্ডে দেখা যায়নি আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত এই আম্পায়ারকে; বরং প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে— কাচের কক্ষে বসে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ক্রিকেট মহলে ধারণা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার ও বিসিবির আপত্তির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণও অনিশ্চিত। ঠিক এমন সময়েই সৈকতকে মাঠের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত আরও জল্পনা বাড়িয়েছে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সাধারণত দুজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকেন। তাদের একজন মাঠে (অনফিল্ড) দায়িত্ব পালন করেন, আর অন্যজন থাকেন টিভি আম্পায়ার হিসেবে। সাধারণত সিরিজে পালাক্রমে দায়িত্ব বদল হয়— কেউ এক ম্যাচে অনফিল্ড করলে পরের ম্যাচে টিভি আম্পায়ার হন। তিন ম্যাচের সিরিজে অন্তত এক ম্যাচ মাঠে থাকার রীতি কার্যত অলিখিত নিয়ম।

কিন্তু ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে এই রীতি ভাঙতে দেখা গেছে। এলিট প্যানেলে থাকা বাংলাদেশের সৈকত ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ ছিলেন নিরপেক্ষ আম্পায়ার। অথচ তিন ম্যাচেই অনফিল্ডে ছিলেন ইলিংওর্থ; সৈকত ছিলেন টিভি আম্পায়ার। আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন— বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনার কারণেই এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

সিরিজের তিনটি ম্যাচ তিন ভিন্ন ভেন্যুতে হয়েছে— ভদোদরা, রাজকোট ও ইন্দোর। কোথাও মাঠে নামতে দেখা যায়নি সৈকতকে। ঠিক এই সময়েই বিসিবি ভারতের বাইরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানোর জন্য আইসিসির সঙ্গে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে। আইসিসি অবশ্য এখনো ভারতেই খেলতে চাপ দিচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন একটাই— যদি একজন এলিট আম্পায়ারের ক্ষেত্রেই এমন ‘নিরাপত্তা-সংবেদনশীল’ ব্যবস্থা নিতে হয়, তাহলে ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও কতটা? বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।