logo

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভারতকে হারাল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভারতকে হারাল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দল। ছবি: বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নের ফেসবুক পেজ

১৪২ রানের লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। কিন্তু শারজায় ভারতের সাবেক তারকাদের সেই রানও তুলতে দিলেন না বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা।

এনামুল হক জুনিয়রের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। সেই সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে দলটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৪১ রান তোলে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই থামে যুবরাজ সিংয়ের ভারত চ্যাম্পিয়নস।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিপদে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারে আম্বাতি রায়ডুকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন আবু জায়েদ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে স্টুয়ার্ট বিনিকেও ফেরান তিনি। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে কোনো রান না করেই ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৭ রান।

মাত্র ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৫ রান করে আক্রমণাত্মক শুরু করেছিলেন রবিন উথাপ্পা। তবে তাকে এলবিডব্লিউ করে ভারতের চতুর্থ উইকেটটি তুলে নেন রুবেল হোসেন।

এরপর বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এনামুল হক জুনিয়র। দশম ওভারে ইউসুফ পাঠানকে বোল্ড করে শুরু করেন তিনি। এরপর ১৫তম ওভারে একাই তুলে নেন তিন উইকেট।

ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে রিশি ধাওয়ানকে বোল্ড করেন এনামুল। চতুর্থ বলে একইভাবে ফেরান ইরফান পাঠানকে। পরের বলেই অভিমন্যু মিঠুনকে ইমরুল কায়েসের ক্যাচে পরিণত করেন বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র চার বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে ৮ উইকেটে ৮৮ রানে নেমে আসে ভারত।

সেখান থেকে অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন পবন নেগি ও পীযূষ চাওলা। নবম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে আবারও জয়ের আশা দেখতে শুরু করে ভারত। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান।

তবে শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন আবু জায়েদ। নেগি ও চাওলাকে মাত্র ৮ রান নিতে দেন তিনি। ফলে ৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এনামুল। মাত্র ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। আবু জায়েদ ৪ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। রুবেল ও কামরুলের শিকার একটি করে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝোড়ো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। রনি তালুকদারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়েও ৫৭ রান তোলে দলটি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহের পথে এগোতে পারেনি বাংলাদেশ।

২৫ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রনি। অষ্টম ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৬৮ রান হয়ে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি।

নাসির ২১ বলে ২৪ এবং আরাফাত ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন। শেষ দিকে আবু জায়েদের ১০ রানের অবদানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪১ রানে।