Advertisement

নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব
সাকিব আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে সাকিব আল হাসান। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দ্রুত দেশে ফিরতে চান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তবে এখনই ফেরার সুযোগ না হলে ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রতি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন সাকিব।

Advertisement

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলা, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে সাকিব বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাকে অনুসরণ করব। আমার মনে হয়, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন এবং আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা তা অনুসরণ করব।’

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সাকিব অবশ্য তার আগেই দেশে ফিরতে চান। সেটি সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ থেকে দূরত্ব তৈরি করলে দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে, এর আগে এমন পরামর্শও পেয়েছিলেন সাকিব। তবে সেই সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। রাজনৈতিক অবস্থান বদলে দেশে ফেরার পথ তৈরি করার কথা বিবেচনা করছেন না বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।

সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন সাকিব। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সেখানে তিনি শান্তি এবং বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাই বলেছেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশে সাকিবের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান সাকিব। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত তিনি। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই অলরাউন্ডার।

বর্তমানে সাকিবের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় থাকার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনি। এর একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলা, অন্যটি দুর্নীতিসংক্রান্ত। হত্যা মামলার ঘটনার দিন তিনি কানাডার টরন্টোয় খেলছিলেন বলেও দাবি করেছেন সাকিব।

দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সাকিব। তবে তাতে কোনো সমাধান আসেনি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আইন সবার জন্য সমান এবং সাকিবকে দেশে ফিরে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আশা ছাড়েননি সাকিব। দেশে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

তবে বয়স যে অপেক্ষার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে, সেটিও জানেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তাই দেশে ফেরার পথ কত দ্রুত খুলবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।