ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান রুয়েলের পাঁচ উইকেট, চট্টগ্রামে জয়ের শতক

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিনটা মাহমুদুল হাসান জয়ের জন্য ছিল মাইলফলকের, বরিশালের জন্য দুঃস্বপ্নের। চট্টগ্রামে মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিন হাজার প্রথম শ্রেণির রানও পূর্ণ করেছেন জয়। আর খুলনায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে ফলোঅনে পড়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় বরিশাল।
রোববার প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে বড় চাপে আছে ঢাকা বিভাগও। রংপুরের ৩৪০ রানের জবাবে ৭৪ রানেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলা ঢাকা দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে। সিলেটে অবশ্য ময়মনসিংহের ৩১১ রানের জবাবে লড়াইয়ে আছে স্বাগতিকেরা।
জয়ের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামের শক্ত জবাব
চট্টগ্রামে রাজশাহীর ৩৬৪ রানের জবাবে কোনো উইকেট না হারিয়েই ১৯০ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকেরা। মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত ১০২ রানে, তাঁর উদ্বোধনী সঙ্গী সাদিকুর রহমান ৮৬ রানে।
১৬৬ বলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জয়। আট চার ও দুই ছক্কায় সাজানো ইনিংসটির পথে এই সংস্করণে তিন হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ওপেনার।
দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল রাজশাহীর ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে। শেষ চার উইকেটে আরও ৭৪ রান যোগ করে ৩৬৪ রানে থামে তাদের প্রথম ইনিংস। চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৯৬ রানে চার উইকেট নেন, এনামুল হক আশিকের শিকার তিনটি।
জয় ও সাদিকুরের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচে ভালোভাবেই ফিরেছে চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর চেয়ে এখন তাদের ব্যবধান ১৭৪ রান।
পাঁচ উইকেট নিয়েও রুয়েলের দল ফলোঅনে
খুলনায় ব্যক্তিগত সাফল্যের দিন কাটিয়েছেন বরিশালের রুয়েল মিয়া। কিন্তু তাঁর পাঁচ উইকেটও দলকে ম্যাচে রাখতে পারেনি।
আগের দিনের তিন উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় সকালে আফিফ হোসেন ও আবদুল হালিমকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই পেসার। ২৭.৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অষ্টমবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন রুয়েল।
৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনা শেষ পর্যন্ত তোলে ৪২৬। আফিফ করেন ৫০ রান।
এরপর বরিশালের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে পুরোপুরি। মাত্র ২৮.৪ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয় তারা। অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতির ৪৪ রান ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেননি।
খুলনার মেহেদী হাসান রানা ২৫ রানে এবং শেখ পারভেজ জীবন ১০ রানে নেন তিনটি করে উইকেট। সফর আলী ও আবদুল হালিম পেয়েছেন দুটি করে।
৩৩২ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅনে নামা বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি। ২ উইকেটে ৪৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে তারা। ইনিংস হার এড়াতেই এখনো দরকার আরও ২৮৯ রান।
মিরপুরে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে ঢাকা
মিরপুরে রংপুরকে এগিয়ে রাখার পেছনে বড় ভূমিকা চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের। তার ৭৫ রানের ইনিংসে রংপুর প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৪০।
ঢাকার পক্ষে বাঁহাতি স্পিনার আরিফ আহমেদ ৯২ রানে চার উইকেট নেন।
কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। ৭৪ রান তুলতেই ছয় ব্যাটার ফিরে যান। এরপর তাইবুর রহমান ও সুমন খান দিনের বাকি সময় সামলে নেন।
৬ উইকেটে ১২০ রানে দিন শেষ করেছে ঢাকা। তাইবুর ৩২ ও সুমন ১৯ রানে অপরাজিত। প্রথম ইনিংসে এখনো ২২০ রানে পিছিয়ে তারা।
ব্যাট হাতে রংপুরের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতেও দুটি উইকেট নিয়েছেন রিজওয়ান।
সিলেটকে টেনে রাখলেন জাকির ও গালিব
সিলেটে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আছে ম্যাচ। ময়মনসিংহের ৩১১ রানের জবাবে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান করেছে স্বাগতিক সিলেট।
অধিনায়ক জাকির হাসান ৬০ রান করেছেন। আসাদউল্লাহ আল গালিব ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহকে ছাড়িয়ে যেতে সিলেটের প্রয়োজন আরও ৭৫ রান, হাতে আছে পাঁচ উইকেট।
এর আগে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহের ইনিংস ৩১১ রানে থামে। সিলেটের তোফায়েল আহমেদ, নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ নেন তিনটি করে উইকেট।
