logo

চোট কাটিয়ে কেকেআর শিবিরে পাথিরানা

চোট কাটিয়ে কেকেআর শিবিরে পাথিরানা

এখনও কোনো ম্যাচ খেলেননি, তবু কেকেআর শিবিরে আলোচনার বড় নাম লঙ্কান পেস সেনসেশন মাতিশা পাথিরানা। চোটের কারণে মৌসুমের শুরু থেকে বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কান পেসার অবশেষে দলে যোগ দিয়েছেন। বেগুনি জার্সিতে তার প্রথম ঝলকই কেকেআর সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

হার্ষিত রানা ও আকাশ দীপের অনুপস্থিতিতে এমনিতেই পেস আক্রমণ নিয়ে ভুগছে কেকেআর। সেই জায়গায় পাথিরানার ফেরা দলের জন্য বড় সংযোজন। তবে শুধু ফিরলেই হবে না, কেকেআরের প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে হয়তো নিজের ভূমিকাও বদলাতে হবে।

দলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিন একা অনুশীলন করেন পাথিরানা। পরদিন ম্যাচের আগের সন্ধ্যায় পুরো ছন্দে বল করতে দেখা যায় তাকে। শেন ওয়াটসন ও টিম সাউদির নজরে নেটে একের পর এক ইয়র্কার করেন তিনি। রিংকু সিং ও অনুকূল রায়ের বিপক্ষে তার মূল লক্ষ্য ছিল শরীরের কাছাকাছি বল রাখা, বিশেষ করে মিডল ও লেগ স্টাম্প লাইনে।

রিংকু স্টাম্প ঢেকে খেলতে চাইলেও কয়েকবার পাথিরানার গতির সামনে অস্বস্তিতে পড়েন। অনুকূলের বিপক্ষে একটি বল লেগ সাইডে চলে গেলে নিজেই বিরক্তি প্রকাশ করেন এই পেসার। পরে আংক্রিশ রঘুবংশী ও টিম সাইফার্টের বিপক্ষে স্লোয়ার ডেলিভারিও ঝালিয়ে নেন তিনি।

তবে পাথিরানাকে কেকেআরের একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক হবে না। তিনি চোট কাটিয়ে ফিরছেন। আর টানা ব্যর্থতায় থাকা দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে শুধু একজন বোলার যথেষ্ট নয়। তবু তার উপস্থিতির মূল্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এ মৌসুমে কেকেআরের বোলিং পরিসংখ্যান হতাশাজনক। সাত ম্যাচে মাত্র এক জয় পাওয়া দলটির বোলারদের ইকোনমি রেট সবচেয়ে খারাপদের মধ্যে। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে তারা প্রচুর রান দিচ্ছে। প্রথম ছয় ওভারে রান আটকানো ও দ্রুত উইকেট নেওয়াই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সেই কারণেই পাথিরানার ভূমিকা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। চেন্নাইয়ে থাকাকালে তাকে সাধারণত ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগে ব্যবহার করা হতো। পাওয়ারপ্লেতে প্রায় দেখা যেত না। কিন্তু কেকেআরে এসে ছবিটা বদলাতে পারে। নতুন বলে তার গতি, স্লিং অ্যাকশন ও ইয়র্কার কাজে লাগিয়ে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইতে পারে দলটি।

২০২৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলার পাথিরানা। তার হাতে আছে বৈচিত্র্য, গতি এবং ডেথ ওভারে কার্যকর ইয়র্কার। কেকেআর চাইলে তাকে পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারের মধ্যে ভাগ করে ব্যবহার করতে পারে।

ডেথ ওভারে কেকেআর তুলনামূলক ভালো করলেও শুরুতে রান দেওয়ার প্রবণতা তাদের বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই পাথিরানার আসল পরীক্ষা হতে পারে নতুন বলেই। শুরুতে রান আটকে উইকেট এনে দিতে পারলে কেকেআরকে আর ম্যাচে ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

চোট কাটিয়ে ফেরা পাথিরানার সামনে তাই সুযোগও বড়, চাপও কম নয়। কেকেআর তাকে ১৮ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়েই। এখন দেখার বিষয়, সেই প্রত্যাশার জবাব তিনি মাঠে কত দ্রুত দিতে পারেন।