logo

অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা

অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা
ছবি: গেটি ইমেজ

মাত্র ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকেরা। এরপর মার্কো ইয়ানসেন ও কাগিসো রাবাদাদের বোলিং তোপে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলোঅনে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি সফরকারীদের। ইনিংস ও ৩১ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৯৫ রানে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। জবাবে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে ফলোঅনে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ডারবানে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে হারা প্রোটিয়ারা এবার দাপুটে জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল।

বৃষ্টিতে প্রথম দুই দিনে সব মিলিয়ে খেলা হয়েছিল মাত্র ৪৩ ওভার। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের দাপটে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সপ্তম উইকেটে মার্কো ইয়ানসেনকে নিয়ে ১৩২ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন বাভুমা। ইয়ানসেন ১০০ বলে ৮৫ রান করে ফিরলেও থামেননি প্রোটিয়া অধিনায়ক।

এরপর সাইমন হারমারকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে আরও ১৮৩ রান যোগ করেন বাভুমা। টেস্ট ক্রিকেটে অষ্টম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রানের জুটিও এটি। ১৫৭ বলে ৮২ রান করেন হারমার। অন্যদিকে ৩৩৪ বলে ১৮ চার ও এক ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ১৭৯ রানের ইনিংস খেলেন বাভুমা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্কট বোল্যান্ড ৮১ রানে ৫ উইকেট নেন।

নিজের ইনিংস নিয়ে বাভুমা বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই এটি আমার অন্যতম সেরা ইনিংস।’ কঠিন পরিস্থিতিতে আগেও অনেকবার ব্যাটিং করলেও এবার ইনিংস বড় করতে পারাটাই তাঁর কাছে বেশি তৃপ্তির বলে জানিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।

বড় সংগ্রহের জবাবে প্রথম ইনিংসেই মুখ থুবড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৪২ ওভার ৩ বলে ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় প্যাট কামিন্সের দল। একাই ৩৩ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন ইয়ানসেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন স্টিভ স্মিথ। তাতে প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রানের লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকারীদের ফলোঅন করায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরিতে চতুর্থ দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছিল তারা। পঞ্চম দিনে বৃষ্টির কারণে সকালের সেশন ভেসে গেলেও ব্যাটিংয়ে নেমে লড়াই চালিয়ে যান হেড ও নাইটওয়াচম্যান বোল্যান্ড।

১৯০ বলে ১৫ চারে ১২১ রান করেন হেড। তবে উইয়ান মুল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলে বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ১৬৬ বল খেলে ক্যারিয়ারসেরা ৪০ রান করেন বোল্যান্ড। তাঁর দীর্ঘ প্রতিরোধও ভাঙেন মুল্ডার।

এরপর দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। কামিন্সকে বোল্ড করেন মুল্ডার, স্টার্ককে ফেরান রাবাদা। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন ইয়ানসেন। অ্যালেক্স ক্যারি ৩৭ রানে অপরাজিত থাকলেও ইনিংস হার এড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ রানে ৪ উইকেট নেন চোট কাটিয়ে ফেরা রাবাদা। মুল্ডার নেন ৬৪ রানে ৩ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৮৫ রানের পাশাপাশি ৫ উইকেট নিয়ে জয়ে বড় অবদান রাখেন ইয়ানসেনও।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে একসময় জয়ের সম্ভাবনাই অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল। শেষ বিকেলে আকাশে আবারও বৃষ্টির মেঘ জমেছিল। অস্ট্রেলিয়ার শেষ চার উইকেট দ্রুত তুলে নিতে না পারলে ম্যাচটি ড্র হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তবে মুল্ডার, রাবাদা ও ইয়ানসেন সেই সুযোগ দেননি। বাভুমার অসাধারণ ব্যাটিং এবং বোলারদের দাপটে শেষ দিনের শেষ সেশনে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকেরা।

আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।