logo

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জোড়া হতাশার দিন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জোড়া হতাশার দিন
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দিনটা কাটল হতাশায়। চট্টগ্রামে পুরুষ দল প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লিডসে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ নারী দল। দুই ম্যাচের গল্পেই মিল একটাই—ব্যাটিং ব্যর্থতা।

চট্টগ্রামে পুরুষ দল ১৩১ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে ৪ উইকেটে। লিডসে নারী দলের ব্যাটিংও একইভাবে ভুগেছে। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ১-এর ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ৭৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৯.৩ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায়।

চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ পায়নি বাংলাদেশ পুরুষ দল। নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকায় কোনো জুটিই বড় হয়নি। সাইফ হাসান ২০, সৌম্য সরকার ১৭, আর শেষ দিকে মাহেদী হাসানের অপরাজিত ২৯ রান ছাড়া বলার মতো অবদান ছিল না। ২০ ওভারও খেলতে না পেরে ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ারও শুরুটা নিখুঁত ছিল না। তবে কুপার কনোলির ৪৭ রানের ইনিংস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় সফরকারীদের হাতে। টিম ডেভিড ২০ রান করেন। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট তুলে বাংলাদেশ চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও লক্ষ্য খুব ছোট ছিল। ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।

পুরুষ দলের হতাশার পর লিডসেও একই ছবি। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দলও ব্যাটিংয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে ফিল্ডিং নেয়, আর শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার শূন্য, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৮, শারমিন আক্তার ৫, সোবহানা মোস্তারি ৪ ও স্বর্ণা আক্তার শূন্য রানে ফিরলে ইনিংসের ভিত্তিটাই নড়ে যায়।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ২৭ রান করে কিছুটা লড়াই করেন। রিতু মনি করেন ১৬। কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের আশপাশেও যেতে পারেনি। ২০ ওভার ব্যাট করলেও রান ওঠে মাত্র ৭৭। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে এলিস পেরি, সোফি মলিনিউ ও কিম গার্থ দুটি করে উইকেট নেন।

৭৮ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। শুরুতে বেথ মুনিকে ফিরিয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে জর্জিয়া ভল ও এলিস পেরি দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেন। ভল অপরাজিত ৪৫ রান করেন, পেরি অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে। মাত্র ৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশ নারী দলের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল তারা, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গেল। বড় দলের বিপক্ষে শুধু ২০ ওভার খেলে আসা যথেষ্ট নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দ্রুত রান তোলার পথও বের করতে হবে।

দিন শেষে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের হতাশার কারণ একই জায়গায় গিয়ে মেলে। ব্যাটিংয়ে কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, মাঝের ওভারগুলোতে চাপ সামলানো যায়নি, আর ছোট পুঁজিতে বোলারদের লড়াইও ম্যাচ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।

ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরুষ দলের সাফল্য আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। নারী দলও বিশ্বকাপে জয় দিয়ে শুরু করেছিল। কিন্তু বুধবারের জোড়া হার মনে করিয়ে দিল, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়।

পুরুষদের প্রথম টি-টোয়েন্টি

বাংলাদেশ ১৩১ অলআউট, ১৯ ওভার

অস্ট্রেলিয়া ১৩৩/৬, ১৮.২ ওভার

অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে জয়ী

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ ৭৭/৮, ২০ ওভার

অস্ট্রেলিয়া ৭৮/১, ৯.৩ ওভার

অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে জয়ী