logo
Advertisement

বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে বিসিবি-কোয়াবের নতুন পরিকল্পনা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে বিসিবি-কোয়াবের নতুন পরিকল্পনা
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না হওয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে আরও বেশি ক্রিকেটারের আয় বাড়াতে দেশের চারটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

Advertisement

তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকের পর আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাইফ হাসান বলেন, ‘বিপিএল যেহেতু হচ্ছে না, অবশ্যই আমাদের একটি ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিসিবি আমাদের জন্য খুব ভালো একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেছে। শুধু বিপিএলের খেলোয়াড় নন, ঘরোয়া ক্রিকেটের সব খেলোয়াড়ই এতে উপকৃত হবেন।’

বিপিএল না হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে শুরুতে ক্রিকেটারদের এককালীন অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে ক্রিকেটাররা সেটি গ্রহণ করেননি বলে বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।

ক্রিকেটারদের যুক্তি, বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ তাদের আয়ের সবচেয়ে বড় দুটি উৎস হলেও প্রতিযোগিতা দুটির আয়োজন নিয়ে প্রায়ই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এক বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে তারা ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিয়মিত ও টেকসই আয়ের নিশ্চয়তা চেয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে বিসিবির অধীন চারটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতাগুলো হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের চার দিনের ও এক দিনের সংস্করণ।

কোয়াবের প্রস্তাবের পর এই চার প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি। তবে বোর্ড সভায় অনুমোদনের পরই নতুন ম্যাচ ফি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

বিপিএলের বিকল্প হিসেবে এ বছর আলাদা কোনো প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।

তিনি বলেন, ‘বিপিএল না হওয়ায় বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না।’

নতুন পরিকল্পনায় বিপিএলে সুযোগ পাওয়া ৫০ থেকে ৭০ জনের পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটের ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার উপকৃত হবেন বলে মনে করেন মিঠুন।

কোয়াব সভাপতি বলেন, ‘আমরা শুধু ৫০ থেকে ৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০ থেকে ২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বছরের সাময়িক সুবিধার পরিবর্তে আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি।’

বিপিএল না হওয়ার সরাসরি ক্ষতিপূরণ তাই পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। তবে চারটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ হলে দেশের বৃহত্তর ক্রিকেটারগোষ্ঠীর নিয়মিত আয় বাড়বে। এখন পরিকল্পনাটি বিসিবির বোর্ড সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে বিসিবি-কোয়াবের নতুন পরিকল্পনা