‘৪০–৫০ নয়, ১০০ রান কম করেছি’, হারের পর হৃদয়ের স্বীকারোক্তি

আফগানিস্তানের কাছে বড় হারে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর সাত উইকেটের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দলকে। ম্যাচ শেষে নিজেদের ব্যর্থতা অকপটে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, শারজার ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অন্তত ১০০ রান কম করেছে বাংলাদেশ। একই ভুল বারবার করার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪১ ওভার ২ বলে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৩৫ ওভার ৩ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। এর আগে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছিল টাইগাররা। ফলে দুই ম্যাচেই হেরে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজ অভিযান।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ থেকে ৫০ রান কম হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ‘না, সত্যি বলতে আমরা ১০০ রান কম করেছি। উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল।’
শুধু এই ম্যাচ নয়, দলের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেছেন হৃদয়। একই ভুল বারবার করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা দিনের পর দিন একই ভুল করছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আবারও ভুল করেছি। শুরুতেই কয়েকটি উইকেট হারিয়েছি। আমার মনে হয়, এটাই ছিল মূল কারণ।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ব্যর্থতার চিত্র ছিল স্পষ্ট। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ১, সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক হৃদয় শূন্য রানে ফেরেন। নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৫ রান। পরে পারভেজ হোসেন ইমনের ৭০ ও সাইফ হাসানের ৪১ রানের ইনিংসে দেড়শ পার করে বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে আর বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে মেহেদী হাসান মিরাজকে আরও ওপরে খেলানো যেত কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় হৃদয়কে। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে পরে আলোচনা করতে পারি। তবে আগেই যেমন বলেছি, ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের রান করতে হবে। তা না হলে টিকে থাকা কঠিন। আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজ থেকে কী শিক্ষা পেল বাংলাদেশ, সেই প্রশ্নে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ের উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অধিনায়ক।
হৃদয় বলেন, ‘সত্যি বলতে, অনেক কিছু শেখার আছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমাদের হাতে সময় আছে। আশা করি, এখান থেকে আমরা কাজ শুরু করব। সামনে
জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই হারে শেষ হওয়া এই সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠেছে ব্যাটিং। সেই ব্যর্থতার দায় এড়াননি অধিনায়কও। তবে ভুলগুলো শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাই দেখিয়েছেন হৃদয়।
