logo

সেমিফাইনালে উঠতে পারবে তো ভারত?

সেমিফাইনালে উঠতে পারবে তো ভারত?

গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছিল ভারত। তবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ধাপে পা রাখতেই বড় ধাক্কা খেল সূর্যকুমার যাদবের দল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে এখন সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে ভারতের।

সুপার এইট ‘গ্রুপ এ’-এর প্রথম ম্যাচে এডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট-বল—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখায়। একপেশে সেই পরাজয়ের ফলে ভারতের নেট রান রেট নেমে গেছে উদ্বেগজনক -৩.৮০০-তে। চার দলের গ্রুপে ভারত এখন তলানিতে আর এই নেট রানরেটেই ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধূলিসাৎ করতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষে উঠে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের সামনে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। ফলে টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থাকার ক্ষেত্রে প্রোটিয়াদের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল। প্রোটিয়াদের সামনে সহজ সমীকরণ হলেও ভারতের সামনে ব্যাপারটি বেশ জটিল।

সমীকরণ কেন কঠিন?

ভারত যদি অবশিষ্ট দুই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে হারায়, তাহলেও তাদের পয়েন্ট হবে চার। কিন্তু একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি ম্যাচ হারলে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা জিম্বাবুয়ে নিজেদের ম্যাচ জিতলে তিন দলের চার পয়েন্টে সমতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেমিফাইনালের দুই দল নির্ধারিত হবে নেট রান রেটে।

এখানেই ভারতের বিপত্তি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার তাদের নেট রান রেটকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচ হারের পরও শেষ পর্যন্ত উইকেট ধরে রেখে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা উচিত ছিল ভারতের। কিন্তু অল-আউট হয়ে যাওয়ায় ব্যবধান দাঁড়ায় ৭৬ রান—যা সুপার এইটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্বে বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন কী করতে হবে

ভারতের সামনে এখন দুটি স্পষ্ট লক্ষ্য—

১. নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ জিততে হবে।
২. একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি হারের ওপর নির্ভর করতে হবে।

যদি দক্ষিণ আফ্রিকা বাকি দুটি ম্যাচেই জয় পায়, তবে তারা সহজেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। তখন ভারতের লড়াই হবে মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানের জন্য। তবে সে ক্ষেত্রেও নেট রান রেট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর সুপার এইটে এসে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পরবর্তী দুটি ম্যাচ তাই ভারতের জন্য ‘ডু অর ডাই’ লড়াই হয়ে উঠেছে।