কোচের আকুতিতে চার্টাড ফ্লাইট পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার পড়েছে ক্রিকেটেও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে আটকে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি চার্টাড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে ক্যারিবীয় দলটি।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর প্রায় চার দিন ধরে কলকাতায় আটকে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। আন্তর্জাতিক আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়।
শেষ পর্যন্ত আইসিসির হস্তক্ষেপে দলটির জন্য একটি চার্টাড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দলের অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন সামি। তিনি এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্টে তিনি ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে আপডেট চেয়ে লেখেন, ‘কমপক্ষে একটা আপডেট দিন। আজ, কাল নাকি আগামী সপ্তাহ—কিছু তো বলুন। পাঁচ দিন হয়ে গেল।’
চার্টাড ফ্লাইটের ব্যবস্থা হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, এটাই দলটির মূল চাওয়া ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ম্যাচটি হয়েছিল কলকাতায়।
সেই ম্যাচের পরই দলটির দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, ফলে তাদের যাত্রা বিলম্বিত হয়।
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কয়েকজন ক্রিকেটার আপাতত ভারতেই থাকতে পারেন, কারণ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে আইপিএলের প্রস্তুতি ক্যাম্প।
রোভম্যান পাওয়েল খেলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে, শেরফান রাদারফোর্ড আছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে। অন্যদিকে শিমরন হেটমায়ার খেলেন রাজস্থান রয়্যালসে এবং রোমারিও শেফার্ড আছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে।
একই কারণে সমস্যায় পড়েছিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলও। তাদের ফেরানোর জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা হয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছিল এবং খেলোয়াড়দের নিরাপদে দেশে ফেরাতে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।