তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জাহানারা আলমের অসন্তোষ, বিসিবির কাছে স্বচ্ছতার দাবি

যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের ধরন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ‘মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি’ শনিবার এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানায়।
জাহানারার আইনজীবীদের বক্তব্য, অভিযোগকারী হিসেবে তদন্তের ফলাফল জানার অধিকার জাহানারার রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন পর্যন্ত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনের কপিও সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যৌন হয়রানি, অসদাচরণ, প্রতিশোধমূলক আচরণ ও গোপনীয়তা ভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন গোপন রাখা উদ্বেগজনক। তদন্ত শেষ হওয়ায় জাহানারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা না থাকায় তিনি হতাশ—এ কথাও উল্লেখ করা হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবির দেওয়া বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতেই জাহানারার পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। আইনজীবীরা জানান, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চেয়ে বিসিবিকে ই-মেইল করা হলে বোর্ড থেকে জানানো হয়, প্রতিবেদনটি এখন তাদের লিগ্যাল টিমের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত জাহানারাকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উত্তর মেলেনি।
বিসিবির আগের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, জাহানারা আলম উত্থাপিত চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল। তবে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বা কী তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে—সে বিষয়ে বোর্ড বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
এই অস্পষ্টতাকে হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন জাহানারার আইনজীবীরা। তাদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা জরুরি ছিল।
এ ছাড়া তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিসিবি দাবি করেছিল, কমিটি তাদের নিজস্ব উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে। কিন্তু জাহানারার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিটিটি মূলত তার আনুষ্ঠানিক যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তের উদ্দেশ্যেই গঠিত হয়েছিল।