ব্যাটিং বিপর্যয় পেরিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

৫৫ রানেই নেই ছয় উইকেট। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এমন বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছিলেন শারমিন আক্তার। এরপর ছোট পুঁজি আগলে রাখার দায়িত্ব নিলেন বোলাররা। তাদের দাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের শেষ চারে উঠলেন নিগার সুলতানারা।
মঙ্গলবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে পুরো ২০ ওভার খেলেও ৯ উইকেটে ৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি আমিরাত।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।
১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় আমিরাত। অধিনায়ক এশা ওজাকে ২ রানে বোল্ড করেন মারুফা আক্তার। নিজের পরের শিকার বানান সামাইরা ধারনিধারকাকে। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে মাত্র ১৫ রান তুলতেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা।
মারুফার তৈরি করা চাপ আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমিরাত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রাখেন স্পিনাররা। লেগ স্পিনার রাবেয়া খান ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। মারুফা ৯ রানে ও নাহিদা আক্তার ১৮ রানে নেন দুটি করে উইকেট। সুলতানা খাতুন ১০ রানে এবং ফাহিমা খাতুন ১৬ রানে একটি করে উইকেট পান। আমিরাতের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন হিনা হোতচান্দানি।
এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে অবশ্য স্বস্তি ছিল সামান্যই। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলের রান ওঠার আগেই ফেরেন দিলারা আক্তার। সোবহানা মোস্তারি করেন ৩ রান। জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ১৬ ও অধিনায়ক নিগার সুলতানার ২৩ রানেও বিপর্যয় কাটেনি। ইনধুজা নন্দকুমারের পরপর দুই বলে স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন শূন্য রানে ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৫৫।
সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে নাহিদাকে নিয়ে ৪২ রান যোগ করেন শারমিন। তিন চারে ৩১ বলে দলের সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন তিনি। নাহিদা ২৬ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের জুটিতেই তিন অঙ্কে পৌঁছায় বাংলাদেশের সংগ্রহ।
আমিরাতের সুরক্ষা কোট্টে ১১ রানে নেন ৩ উইকেট। নন্দকুমার পান ২১ রানে ২ উইকেট। তাঁদের বোলিংয়ে বড় সংগ্রহের আশা থামলেও শারমিন-নাহিদার গড়ে দেওয়া পুঁজিটুকুই শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট করে তুললেন বাংলাদেশের বোলাররা।


