দল নির্বাচন নিয়ে বিসিবিকে প্রশ্ন ইমরুলের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দল নির্বাচন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে ট্যালেন্ট এবং কনসিস্টেন্সি বলতে আসলে কী বোঝানো হয়, আর এই দুটির পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করেন নীতিনির্ধারকেরা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের আরেকটি হারের পর দল নির্বাচন, তরুণ ক্রিকেটারদের ব্যবহার এবং ইন-ফর্ম খেলোয়াড়দের সুযোগ না পাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন ইমরুল।
পোস্টের শুরুতে ইমরুল লিখেছেন, একজন সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তার মনে কিছু প্রশ্ন জমে আছে। তার দাবি, বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় খারাপ পারফর্ম করেও নিয়মিত সুযোগ পান। অন্যদিকে যারা ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করছেন, তাদের কখনো ফরম্যাটের অজুহাতে, কখনো অভিজ্ঞতার যুক্তিতে বাইরে রাখা হয়।
ইমরুল উদাহরণ হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনের কথা বলেছেন। তার মতে, ওয়ানডেতে ভালো পারফরম্যান্সের পরও বড় দল বা বড় টুর্নামেন্ট এলেই ইন-ফর্ম ক্রিকেটারদের অনেক সময় দলে দেখা যায় না। তার অভিযোগ, এর বদলে বারবার ভরসা রাখা হয় অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি লিখেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে বাংলাদেশ যেন জয়ের পথটাই ভুলে যাচ্ছে। তার ভাষায়, দল এখন হারের বৃত্তে আটকে আছে। ইমরুলের মতে, শুধু সম্ভাবনার কথা বলে খেলোয়াড় বাছাই করলে হবে না; বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিকতারও যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
তরুণ ক্রিকেটারদের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইমরুল। তার বক্তব্য, নতুন কাউকে জাতীয় দলে আনতে হলে সরাসরি বড় দলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেওয়া উচিত নয়। তুলনামূলক কম চাপের ম্যাচে সুযোগ দিলে একজন তরুণ ক্রিকেটার আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে দলও তার কাছ থেকে ভালো সার্ভিস পেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আবদুল গাফফার সাকলাইনের কথা উল্লেখ করেন। ইমরুল পরিষ্কার করে বলেন, তিনি সাকলাইনকে ছোট করছেন না; বরং প্রতিভাবান বলেই সাকলাইন জাতীয় দলে এসেছেন। তবে তার প্রশ্ন, এমন একজন তরুণকে কি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আগে সুযোগ দেওয়া যেত না? বড় দলের বিপক্ষে হুট করে নামিয়ে দিলে তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন ইমরুল।
পোস্টে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। ইমরুলের মতে, যদি ফিট থাকেন, তাহলে সাইফউদ্দিনের মতো প্রমাণিত অলরাউন্ডারের দলে থাকার দাবি আছে। এমন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে তরুণদের কঠিন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের চলমান প্রক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ইমরুল। তার প্রশ্ন, এই চক্র থেকে বাংলাদেশ কবে বের হবে, আদৌ বের হতে পারবে কি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বারবার ম্যাচ হারলে কোটি সমর্থকের হৃদয় ভাঙে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শেষে বিসিবির নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ইমরুল বলেন, মেধা ও ফর্মের সঠিক মূল্যায়ন হওয়া দরকার। তার আহ্বান, অন্ধ প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তামাশা বন্ধ করা হোক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ রানে হেরেছে। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬/৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ১৮৯/৬ রানে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।


