ফিফটির পর এবার হাবিবুরের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড

মাত্র ছয় দিন আগেই বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। এবার দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও এককভাবে নিজের করে নিলেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আজ ইউল্যাব মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি। দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই এখন দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এর আগে ৪৯ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল হাবিবুর ও মোসাদ্দেক হোসেনের নামে; আজ সেই কীর্তিকে ছাড়িয়ে চূড়ায় বসলেন এই পাওয়ার হিটার।
গত সপ্তাহে মোহামেডানের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করার পথে নাহিদ রানার এক ওভারে ২৬ এবং তাসকিন আহমেদের এক ওভারে ২৫ রান তুলে আলোচনায় এসেছিলেন হাবিবুর। তবে আজকের ইনিংসে তাঁর শুরুটা তেমন ঝোড়ো ছিল না; প্রথম ৯ বলে তার রান ছিল মাত্র ৬। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে এসে মূলত ছন্দ বদলাতে শুরু করেন তিনি। বাঁহাতি স্পিনার নিহাদ উজ জামানের প্রথম বলে চার মেরে বাউন্ডারি খোলার পরের বলেই হাঁকান ছক্কা। এক ওভার পর একই বোলারের ওপর আরও চড়াও হয়ে তুলে নেন ২২ রান। ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর হাবিবুরের ব্যাট আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পরের ৫০ রান তুলতে তিনি খরচ করেন মাত্র ১৯ বল। আর তাতেই ৪৫ বলে পৌঁছে যান ম্যাজিক ফিগারে, ভেঙে দেন আগের সব রেকর্ড।
এর আগে ২০২৩ সালের বিসিএলে (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন হাবিবুর। চলতি মৌসুমে আবাহনীর হয়ে সিটি ক্লাবের বিপক্ষেই সমান ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করে তার সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। এবার তাদের দুজনকে ছাড়িয়ে নতুন এক মানদণ্ড গড়লেন রূপগঞ্জের এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ১৩০ রানের এক বিধ্বংসী টর্নেডো ইনিংস খেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১৩টি ছক্কার মার। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১৯ সালের ডিপিএলে এক ইনিংসে ১৯টি ছক্কা মেরে এই তালিকার শীর্ষে আছেন সৌম্য সরকার।
হাবিবুরের এই তাণ্ডব শুধু ওয়ানডে বা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নয়; বাংলাদেশিদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতেও দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি তারই দখলে। গত বছর রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে হংকং চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, যা সব সংস্করণ মিলিয়েও কোনো বাংলাদেশির দ্রুততম শতক।