ঐতিহাসিক শতকের রহস্য জানালেন তানজিদ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট শতক গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়া এই ওপেনার জানিয়েছেন, দলের প্রয়োজন বুঝে আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল তার সফলতার মূলমন্ত্র।
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৮৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৯৭ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় করেন ১০১ রান।
ঐতিহাসিক ইনিংসটির পর তানজিদ বলেন, ‘বিসমিল্লাহ। প্রথমেই আলহামদুলিল্লাহ। এখানে খেলার সুযোগ পাওয়া দারুণ ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়ায় এটাই আমার প্রথম সফর, আর এটি মাত্র আমার দ্বিতীয় টেস্ট। এখানে শতক করতে পারা আমার জন্য খুবই বিশেষ।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তানজিদ। তবে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে তানজিদ বলেন, ‘দলের যে ধরনের ব্যাটিং প্রয়োজন ছিল, আমি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। উইকেট ভালো ছিল। তারা আমাকে ভিন্ন ভিন্নভাবে আক্রমণ করেছে। আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো বোলারদের সামলাতে আলাদা কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলেও জানিয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
তানজিদের ভাষায়, ‘আমি শুধু বল দেখেছি এবং বল অনুযায়ী খেলেছি। বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি। শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। তারা যে পরিকল্পনায় বল করেছে, আমি সেই বলটিই খেলেছি।’
প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে ডারউইনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়েছে বলে মনে করেন তানজিদ। সামনে উইকেট আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
তানজিদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রথম দিনের তুলনায় উইকেট অনেক ভালো হয়েছে। এটি আরও ভালো হতে থাকবে। এখানে স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় শট খেলতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’
তানজিদের শতকে প্রথম ইনিংসে বড় লিডের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে লিড দাঁড়িয়েছে ৮৮ রানে। নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৯ এবং মুশফিকুর রহিম ২৬ রানে অপরাজিত আছেন।
ম্যাচে বড় কিছু করার বিশ্বাস ড্রেসিংরুমে তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তানজিদ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার তা-ই মনে হয়। তবে সামনের দুটি সেশনও আমাদের ভালোভাবে খেলতে হবে। সেটি করতে পারলে দলের জন্য ভালো হবে।’
এই ইনিংসে বাংলাদেশের তিনটি জুটি পঞ্চাশ রান ছাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশের তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটির এটি চতুর্থ ঘটনা এবং ২০০৬ সালের পর প্রথম।



