logo

‘আইসিসি কার্যত বিসিসিআইয়ের দুবাই শাখা’

‘আইসিসি কার্যত বিসিসিআইয়ের দুবাই শাখা’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ওপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিসিসিআইয়ের ভূমিকা বড় কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রা। তার মতে, বর্তমান সংকটের পেছনে মূলত ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের প্রভাব এবং ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাই বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কটের ইঙ্গিতে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবার বা সর্বোচ্চ আগামী সোমবারের মধ্যে।

এই প্রেক্ষাপটে শারদা উগ্রা একটি আন্তর্জাতিক টক শোতে আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার বিশ্লেষণে উঠে আসে, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়কে (মুস্তাফিজুর রহমান) কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর পুরো দল যখন ভারতে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তখন বিষয়টি আর শুধু ক্রিকেটীয় থাকেনি—এটি বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে রূপ নেয়। 

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) আলাদা করে চিহ্নিত করার পর, পুরো দল যখন বলে দেয় তারা খেলতে যাবে না, তখন পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব থাকে না।’

উগ্রার মতে, আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, আইসিসি বোর্ডে বিসিসিআইয়ের শক্ত অবস্থান এবং অন্য বোর্ডগুলোর নীরব সমর্থন মিলিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। 

উগ্রা আইসিসির ভারতের কাছে নতজানু নীতিরও সমালোচনা করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন,

এটা নিয়ে সবার মধ্যেই প্রচলিত আছে যে আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসি আসলে যেভাবে বিসিসিআই চায়, ঠিক সেভাবেই পরিচালিত হয় এবং আমরা দেখেছি, তাদের এক্সিকিউটিভ বোর্ডও একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে—এতে আমি মোটেও বিস্মিত নই।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ভারতের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আপত্তিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও তিনি মনে করেন। তার দৃষ্টিতে, আইসিসির যুক্তি ও অবস্থান দুর্বল এবং এতে ক্রিকেট প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।