logo

বিসিবির নতুন কমিটিতে কে পেলেন কোন দায়িত্ব

বিসিবির নতুন কমিটিতে কে পেলেন কোন দায়িত্ব
বিসিবি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কমিটি বণ্টন সভা শেষ হলো অল্প সময়েই। অতীতে বিসিবির বোর্ডসভা দীর্ঘ হওয়ায় অনেক সময়ই তা ‘ম্যারাথন সভা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। কোনো কোনো সভা ছয় ঘণ্টার বেশি চলার নজিরও আছে। তবে ৭ জুন নির্বাচিত নতুন পরিচালনা পর্ষদের অভিষেকের পর মঙ্গলবারের কমিটি বণ্টন সভা শেষ হয়েছে মাত্র ৪২ মিনিটে।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে ম্যাচের উত্তেজনার কারণে সভার সময়েও পরিবর্তন আসে। শুরুতে বিকেল ৩টায় সভা হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটি বিকেল ৪টা এবং এরপর ৪টা ৩০ মিনিটে নেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত এই সভাতেই বিসিবির ২৩টি কমিটির অধিকাংশের চেয়ারম্যানের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজের হাতে রেখেছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। অ্যাডহক কমিটির ৬০ দিনের মেয়াদে তিনি ক্রিকেট অপারেশন্স ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার পর ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকছেন তিনি। পাশাপাশি বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি হিসেবে পরিচিত ওয়ার্কিং কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও নিয়েছেন তামিম।

তবে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে এই সভায় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিসিবির কাঠামোয় ক্রিকেট অপারেশন্স সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর একটি হলেও আপাতত সেটি শূন্য রাখা হয়েছে।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি ফাহিম সিনহা আগের দায়িত্বই ধরে রেখেছেন। অ্যাডহক কমিটিতে তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। নির্বাচিত পর্ষদেও এই দুটি কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে মাসুদুজ্জামানকে।

tamim led bcb
tamim led bcb

সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে দেওয়া হয়েছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির দায়িত্ব। এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন শফিকুল আলম।

অর্থ কমিটির দায়িত্বে থাকছেন ইস্রাফিল খসরু। অ্যাডহক কমিটির সময়ও তিনি এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদও তার ওপরই অর্থ কমিটির দায়িত্ব রেখেছে। লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।

টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ এবং সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ। অ্যাডহক কমিটির সময়ও তিনি এই দুই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে ইয়াসির আব্বাসকে।

লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন ইয়াসির ফয়সাল। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন আগের পরিচালনা পর্ষদেও তিনি এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। এবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও একই কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্যাটাগরি-৩ থেকে নির্বাচিত পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তার ডেপুটি হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানকে।

২১ বছর পর বিসিবিতে ফিরে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন মঈনুদ্দিন চৌধুরী কামরু। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কোটা থেকে নির্বাচিত এই পরিচালককে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস বা সিসিডিএমের চেয়ারম্যান পদ।

মার্কেটিং অ্যান্ড কমার্শিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামানকে। এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন আসিফ রব্বানী। পাশাপাশি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন আসিফ রব্বানী।

গ্রাউন্ডস কমিটির দায়িত্বে এসেছে পরিবর্তন। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্যসচিব ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন রফিকুল ইসলাম বাবু। সর্বশেষ অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি এই কমিটির প্রধান ছিলেন। তবে নতুন পরিচালনা পর্ষদে তাঁকে দেওয়া হয়েছে উইমেন্স উইংয়ের দায়িত্ব। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর দিকে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রাউন্ডস কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন শাহনিয়ান তানিম। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করে সর্বশেষ নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। গ্রাউন্ডসের পাশাপাশি হাই পারফরম্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন এই তরুণ পরিচালক।

মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে ডা. সরকার মাহাবুব আহমেদ শামীমকে। ক্যাটাগরি-২ থেকে নির্বাচিত এই পরিচালক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের একমাত্র চিকিৎসক প্রতিনিধি হিসেবে তাকেই মেডিকেল কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় কোটা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক সাইদ বিন জামান হয়েছেন অডিট কমিটির চেয়ারম্যান। একই বিভাগীয় কোটা থেকে নির্বাচিত আরেক পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান পেয়েছেন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড কমিটির দায়িত্ব।

ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন সিলেট বিভাগীয় কোটা থেকে নির্বাচিত পরিচালক কাইয়ুম চৌধুরী। এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে মীর্জা ফয়সাল আমিনকে। ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন এনএসসি কোটা থেকে নির্বাচিত পরিচালক রুহুল আমিন।

তবে নতুন কমিটি বণ্টনের পরও কয়েকজন পরিচালক কোনো কমিটির চেয়ারম্যান পদ পাননি। সাকিফ সালাম, সুমিত ইসলাম সান্তনু, মিজানুর রহমান ও সরফরাজ আহমেদকে আপাতত কোনো কমিটির প্রধান করা হয়নি।

সব মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত সভাতেই বিসিবির নতুন পরিচালনা কাঠামোর বড় অংশ গুছিয়ে নেওয়া হলো। তবে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য রাখা এবং তামিম ইকবালের হাতে ওয়ার্কিং ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটি থাকা—দুটি বিষয়ই নতুন বোর্ডের শুরুতে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।