logo

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে স্বস্তিদায়ক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেওয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড কখনোই ম্যাচের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। মুস্তাফিজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং আক্রমণের সামনে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস আর ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

ম্যাচে নতুন বলে আক্রমণ শুরু করেন শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান। শুরুতেই দুই পেসারের গতি ও মুভমেন্টে চাপে পড়ে কিউই ওপেনাররা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে হেনরি নিকোলস উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

এরপর কিছুটা সময় নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন নিক কেলি ও উইল ইয়ং। তবে রান তোলার গতি ছিল ধীর, এবং এই ধীরগতিই ম্যাচ থেকে নিউজিল্যান্ডকে ধীরে ধীরে ছিটকে দেয়। নাহিদ রানা নিজের গতিতে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেন ব্যাটারদের কেলির হেলমেটে লাগা বাউন্সার সেই চাপেরই প্রতিফলন। শেষ পর্যন্ত ইয়ংকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভেঙে দেন তিনি।

মাঝের ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান। মিরাজ তার নিয়ন্ত্রিত অফ-স্পিনে রান আটকে রেখে চাপ বাড়ান, আর সেই চাপ কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নেন ফিজ। বিশেষ করে নিক কেলির (৫৯) উইকেটটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেটি পড়ার পরই মূলত ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে যায়।

এরপর আর কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে কিছুটা ভয় ধরালেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমান আবার আঘাত হেনে টেলএন্ড গুঁড়িয়ে দেন, তুলে নেন ক্যারিয়ারের আরেকটি পাঁচ উইকেট।

নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অলআউট হয়, ফলে ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন ম্যাচের সেরা ৫ উইকেট নিয়ে একাই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়াও নাহিদ রানা ২টি, মিরাজ ২টি ও শরিফুল ১টি উইকেট নেন।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল ধাক্কায় ভরা, ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। সেই অবস্থায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস মিলে ১৪৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে। শান্ত খেলেন ১০৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস, যেখানে ছিল পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিংয়ের নিখুঁত ছাপ। লিটন দাস ৭৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন। শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয় ৩৩* ও মিরাজ ২২ রান যোগ করলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।