দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস

সিলেটে প্রথম সেশন শেষের সময় বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থানে ছিল না। ৩ উইকেটে ১০১ রান, ক্রিজে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানের জুটি প্রথম সেশনের শুরুর ধাক্কা কিছুটা সামলে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় সেশনে এই জুটিই বাংলাদেশকে স্থিতি এনে দিতে পারে। কিন্তু বিরতির পর সেই ছবিটাই পাল্টে গেল দ্রুত।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিং ধসে আবার চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর ১৩.৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান তুলতেই হারিয়েছে ৩ উইকেট। ৩ উইকেটে ১০১ থেকে বাংলাদেশের স্কোর নেমে দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১৬ রানে।
দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চেপে ধরে পাকিস্তান। মোহাম্মদ আব্বাস ও সাজিদ খান টানা মেইডেন ওভার করে শান্ত-মুশফিকের রানের গতি আটকে দেন। ২৭তম ওভারে আব্বাস মেইডেন করেন, এরপর সাজিদও নিয়ন্ত্রণ রেখে ব্যাটসম্যানদের সহজে রান নিতে দেননি। ৩০ ও ৩১তম ওভারও মেইডেন যায়। এই চাপই পরে উইকেটে রূপ নেয়।
ধসের শুরু শান্তর বিদায়ে। লাঞ্চে ২৬ রানে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক দ্বিতীয় সেশনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সাজিদ ও আব্বাসের চাপের মধ্যে তার ইনিংস থেমে যায় ২৯ রানে। ৭৩ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। শান্তর বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
এরপর মুশফিকুর রহিমের উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে আরও এগিয়ে দেন খুররম শাহজাদ। লেংথ থেকে ভেতরে ঢোকা বলে প্যাডে আঘাত লাগে মুশফিকের। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেন তিনি, কিন্তু বল লেগ স্টাম্প ছুঁয়ে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ৬৪ বলে ২৩ রান করে ফিরতে হয় মুশফিককে।
মুশফিকের পর দ্রুত ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজও। খুররমের শর্ট বল হুক করতে গিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না মিরাজ। বল যায় ডিপ ফাইন লেগে, সেখানে সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান আলী। ৬ বলে ৪ রান করে ফেরেন মিরাজ। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৬।
এই ধসের মাঝেও লিটন দাস উইকেটে আছেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তবে পরিস্থিতি এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন। প্রথম সেশনে ১০১ রান তুললেও দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, বিশেষ করে খুররম শাহজাদের আগ্রাসী স্পেল, ম্যাচের ভারসাম্য বদলে দিয়েছে।
এর আগে সিলেটে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদুল হাসান জয়কে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ২৬ ও মুমিনুল হক ২২ রান করলেও কেউ বড় ইনিংসে যেতে পারেননি। লাঞ্চে শান্ত-মুশফিকের জুটিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের ধসে সেই স্বস্তি মিলিয়ে গেছে দ্রুত।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। সিলেটে সিরিজ জিততে হলে প্রথম ইনিংসে লড়াকু সংগ্রহ দরকার ছিল শান্তদের। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের ব্যাটিং ধস সেই পথ কঠিন করে দিল। এখন লিটনদের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতদূর এগোতে পারে।
