হোপের সেঞ্চুরি, পলের ৫ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে সমতায় উইন্ডিজ

শাই হোপের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ফিফটিতে দারুণ শুরু করেছিল ভারতও। তবে কিমো পলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি স্বাগতিকরা। হায়দরাবাদে ২৪ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৯ দশমিক ৩ ওভারে ২২৩ রানে থামে ভারতের ইনিংস। ফলে আগামী ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে।
২৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। প্রথম চার ওভারেই বিনা উইকেটে ৬০ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসন ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ২৩ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৬ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
তবে পঞ্চম ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কিমো পল। ওভারের প্রথম বলেই স্যামসনকে ফেরানোর পর একই ওভারে তুলে নেন ঈশান কিষানের (৬) উইকেটও। এরপর শ্রেয়াস আইয়ারকে (১৬) ফেরান শামার স্প্রিঙ্গার।
মাঝের ওভারগুলোতে ভারতের চাপ আরও বাড়ান গুদাকেশ মোতি। দ্বাদশ ওভারে পরপর দুই বলে অভিষেক শর্মা (২৯) ও নামান ধীরকে (০) ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৩০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে তখন বড় হারের শঙ্কায় স্বাগতিকরা।
সেখান থেকে ভারতকে আবার লড়াইয়ে ফেরান তিলক ভার্মা ও নীতিশ কুমার রেড্ডি। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৭০ রান। ২৫ বলে ৪৩ রান করে তিলক রোমারিও শেফার্ডের বলে আউট হলে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর ১৯তম ওভারে ভারতের জয়ের আশা প্রায় শেষ করে দেন পল। ওভারের দ্বিতীয় বলে ২০ বলে ৪১ রান করা নীতিশকে ফেরান তিনি। পরের বলেই বোল্ড করেন প্রিন্স যাদবকে। একই ওভারে অক্ষর প্যাটেলকেও ফিরিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
চার ওভারে ৪১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন পল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর আগে ২০১৮ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডার।
শেষদিকে অর্শদীপ সিং চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১৯ দশমিক ৩ ওভারেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মোতি দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক শাই হোপ। ওপেনিংয়ে জুয়েল অ্যান্ড্রুর সঙ্গে মাত্র ২৬ বলে ৫২ রান যোগ করেন তিনি। অ্যান্ড্রু ২১ রানে ফিরলেও থামেননি হোপ। মাত্র ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ান ক্যারিবীয় অধিনায়ক।
শিমরন হেটমায়ার ১২ বলে ৩৩ ও রভম্যান পাওয়েল ১৭ বলে ২৪ রান করে ফিরে গেলে হোপের সঙ্গী হন শেরফান রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইনিংসের শেষ দুই বলের আগে ৯০ রানে ছিলেন হোপ। নীতিশের করা শেষ ওভারের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৫০ বলে ৪টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। অন্যদিকে রাদারফোর্ড ২৬ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এই সেঞ্চুরিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাসও গড়েছেন হোপ। ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে ছাড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি করার কীর্তি এখন তাঁর দখলে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
ভারতের হয়ে অক্ষর প্যাটেল, প্রিন্স যাদব ও অর্শদীপ সিং নেন একটি করে উইকেট। তবে রান আটকাতে ব্যর্থ ছিলেন স্বাগতিক বোলাররা। অর্শদীপ ও মায়াঙ্ক যাদব দুজনই নিজেদের চার ওভারে ৫২ রান করে দেন।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় ম্যাচে আবারও এগিয়ে যায় ভারত। এবার চতুর্থ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ক্যারিবীয়রা। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুতে সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
-adadd0.webp)