হাসান-তানজিদের আড়ালে আসল মাস্টারমাইন্ড শান্ত!
-a00ccd.webp)
ছয় উইকেট নিয়ে প্রথম দিনটা নিজের করে নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিনে ইতিহাস গড়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের দাপটের গল্পটা যদি একটু গভীরভাবে দেখা হয়, তাহলে এই দুই নায়ককেও ছাপিয়ে সামনে আসে আরেকটি নাম, ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে হাসানের ৬ উইকেট অবশ্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে সেই অস্ত্রকে সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার কাজটা করেছেন অধিনায়ক শান্ত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য অফসাইডে চাপ তৈরি, স্লিপে ক্যাচিং পজিশন ধরে রাখা কিংবা পেসারদের দিয়ে বারবার একই জায়গায় আঘাত, সব মিলিয়ে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর চাপটা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। লাবুশেনের ক্যাচটিও দ্বিতীয় স্লিপে শান্তর হাতেই আসে।
দ্বিতীয় দিনে অবশ্য আলোটা পুরোপুরি তানজিদ হাসান তামিমের। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসে তিনি লিখেছেন নতুন ইতিহাস। কিন্তু সেই ইনিংসের পাশেই অধিনায়ক শান্তর ব্যাটও কথা বলেছে সমান জোরে। ১২৬ বলে ৮৪ রান, সাতটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। তানজিদের সঙ্গে তার জুটিতে এসেছে ৯৩ রান, এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আরও ৬৬। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখিয়েছেন শান্ত; ৮৪ রানের ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট প্রায় ৬৭।
দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৫১ রানে ৬ উইকেট। লিড ১৫৩। তানজিদ পেয়েছেন সেঞ্চুরি, হাসান পেয়েছেন ছয় উইকেট। কিন্তু এই দুই দিনের পারফরম্যান্সের মধ্যে একটা যোগসূত্র খুঁজলে সেটি নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব। মাঠে পরিকল্পনা, বোলারদের ব্যবহার, ফিল্ড সেটিং এবং ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব, সব জায়গাতেই ছাপ রেখেছেন তিনি।
হাসান মাহমুদ আর তানজিদ হাসান তামিম তাই হয়তো দুই দিনের দুই বড় নায়ক। কিন্তু ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার পুরো পরিকল্পনার পেছনে যে মানুষটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়ক হিসেবে এটাই হয়তো তার সবচেয়ে বড় সাফল্য, আলোটা নিজের দিকে না টেনে, পুরো দলকে আলোয় নিয়ে আসা।



