চার ম্যাচে জয় নেই দক্ষিণ আমেরিকার, এবার ভরসা আর্জেন্টিনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অবশেষে আগামীকাল বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। কিন্তু লিওনেল মেসিদের সামনে চ্যালেঞ্জ শুধু নিজেদের প্রথম ম্যাচ জেতা নয়। তাঁদের কাঁধে আছে দক্ষিণ আমেরিকার খারাপ শুরুর ভারও।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কনমেবল অঞ্চলের চার দল মাঠে নেমেছে। কেউ জিততে পারেনি। প্যারাগুয়ে হেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, ব্রাজিল ড্র করেছে মরক্কোর সঙ্গে, ইকুয়েডর হেরেছে আইভরি কোস্টের কাছে, আর উরুগুয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে করেছে ১-১ ড্র। দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বিশ্বকাপে এমন শুরু খুবই বিরল।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবার কনমেবল দলগুলো তাদের প্রথম চার ম্যাচে জয় পায়নি। সেটি ১৯৭৪ বিশ্বকাপ। সেবার ব্রাজিল যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। আর্জেন্টিনা হেরেছিল পোল্যান্ডের কাছে, উরুগুয়ে হেরেছিল নেদারল্যান্ডসের কাছে, আর চিলি হেরেছিল পশ্চিম জার্মানির কাছে।
৫২ বছর পর এবার আবারও একই অস্বস্তিকর অবস্থায় দক্ষিণ আমেরিকা। আর্জেন্টিনার সামনে তাই আলজেরিয়া ম্যাচ শুধু শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরু নয়; কনমেবলের জয়হীন শুরু ভাঙার সুযোগও।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। ২০২২ সালে কাতারে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পরও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল তারা। সেই অভিজ্ঞতা এবারও স্কালোনির দলের মনে আছে। তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা সতর্ক।
স্কালোনি নিজেও বলেছেন, প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই টুর্নামেন্ট নির্ধারণ করে না। ২০২২ সালের অভিজ্ঞতা তাঁদের শিখিয়েছে, বিশ্বকাপে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আলজেরিয়ার দ্রুতগতি, কৌশলগত শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ।
আলজেরিয়াও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ভ্লাদিমির পেতকোভিচের দল বিশ্বকাপে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ফল পেয়েছে তারা। আক্রমণে গতি আছে, মাঝমাঠে শারীরিকতা আছে, আর বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করার প্রেরণা তো আছেই।
আর্জেন্টিনার জন্য আরেকটি বড় গল্প মেসি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন তিনি। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেয়েছে, কিন্তু এবার তিনি নামছেন শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে। ব্রাজিলের ১৯৬২ সালের পর কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনা সেই ইতিহাস বদলাতে চায়।
তবে শুরুটা সহজ হবে না। এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিটদের পথ বারবার কঠিন হয়েছে। স্পেন কেপ ভার্দেকে হারাতে পারেনি। ব্রাজিল মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে। উরুগুয়ে সৌদি আরবকে হারাতে পারেনি। বেলজিয়ামও মিসরের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনার ম্যাচেও সতর্কতা জরুরি।
আর্জেন্টিনা দলে বড় দুশ্চিন্তা খুব বেশি নেই। হুলিয়ান আলভারেজ গোড়ালির সমস্যা কাটিয়ে ফিরেছেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আঙুলের চোটের পর খেলতে প্রস্তুত বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাফ সমস্যার কারণে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় আছে।
আর্জেন্টিনার শক্তি তাদের অভিজ্ঞতা। মেসি, এমি মার্তিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ—কাতারের চ্যাম্পিয়ন দলের বড় অংশ এখনও স্কালোনির হাতে। এই ধারাবাহিকতাই আর্জেন্টিনাকে অন্য অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
তবু প্রথম ম্যাচে ভুলের সুযোগ নেই। প্যারাগুয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ হেরে দক্ষিণ আমেরিকার শুরুটা খারাপ করেছিল। ব্রাজিল মরক্কোর বিপক্ষে শুধু এক পয়েন্ট পেয়েছে। ইকুয়েডর সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে আইভরি কোস্টের কাছে হেরেছে। উরুগুয়েও সৌদি আরবের বিপক্ষে জিততে পারেনি। এই ব্যর্থতার ধারাই এখন আর্জেন্টিনার সামনে মানসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
মেসিদের জয় শুধু আর্জেন্টিনার জন্য ভালো শুরু হবে না, দক্ষিণ আমেরিকার জন্যও স্বস্তি হবে। আর যদি আলজেরিয়া কোনো অঘটন ঘটায়, তাহলে কনমেবলের ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।
কানসাস সিটিতে তাই আজ আর্জেন্টিনার ম্যাচে চোখ থাকবে শুধু আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নয়। তাকিয়ে থাকবে পুরো দক্ষিণ আমেরিকাও। ৫২ বছরের পুরোনো এক অস্বস্তি আবার পুরোপুরি ফিরে আসবে কি না, সেটির উত্তরও দেবে মেসিদের প্রথম ম্যাচ।
কনমেবলের এখন পর্যন্ত ফল
- প্যারাগুয়ে ১-৪ যুক্তরাষ্ট্র
- ব্রাজিল ১-১ মরক্কো
- ইকুয়েডর ০-১ আইভরি কোস্ট
- উরুগুয়ে ১-১ সৌদি আরব
১৯৭৪ সালে যা হয়েছিল
- ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া
- আর্জেন্টিনা ২-৩ পোল্যান্ড
- উরুগুয়ে ০-২ নেদারল্যান্ডস
- চিলি ০-১ পশ্চিম জার্মানি
আজকের ম্যাচ
আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া
ভেন্যু: কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
গ্রুপ: জে
.png)


