logo

২৮ বছরের অপেক্ষার পর জয় দিয়ে ফিরল স্কটল্যান্ড

২৮ বছরের অপেক্ষার পর জয় দিয়ে ফিরল স্কটল্যান্ড
স্কটল্যান্ডের হয়ে একমাত্র গোল করেন জন ম্যাকগিন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফিরতে স্কটল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৮ বছর। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফেরা ম্যাচেই জয় দিয়ে শুরু করল তারা। গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্টিভ ক্লার্কের দল।

বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জন ম্যাকগিন। ২৮ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে স্কটল্যান্ড। প্রথম প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিদ। কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে ভুল করেননি ম্যাকগিন। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।

স্কটল্যান্ডের জন্য গোলটি শুধু ম্যাচের লিড নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর স্বস্তির মুহূর্তও। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছে তারা। সেই ফেরার ম্যাচে জয় তাদের গ্রুপ পর্বের আশা আরও উজ্জ্বল করল।

তবে ম্যাচটা একতরফা ছিল না। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতি শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলেছে। প্রথমার্ধে তারা কয়েকবার স্কটল্যান্ডের রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। লুইসিয়ুস ডিডসন, রুবেন প্রোভিডেন্স ও ফ্রান্টজি পিয়েরো আক্রমণে বারবার জায়গা খুঁজেছেন। ৩৪ মিনিটে প্রোভিডেন্সের শট সামলাতে সমস্যায় পড়েন স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান। ফিরতি বলে পিয়েরোর সামনে সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় স্কটল্যান্ড।

স্কটল্যান্ডও প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। ১৭ মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনের শট পোস্টে লাগে। পরে বেন গ্যানন-ডোক ও লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডও কিছু সুযোগ তৈরি করেন। তবে বিরতিতে ১-০ ব্যবধানই ধরে রাখে স্কটল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বল ধরে খেলতে চেয়েছে, দুই পাশ দিয়ে ক্রস তুলেছে, কিন্তু শেষ স্পর্শের ঘাটতি থেকে গেছে। ৮৫ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় হাইতি। দারুণ ক্রস থেকে পিয়েরো হেড নিলেও বল অল্পের জন্য বাইরে যায়। সেটিই ছিল হাইটির সমতায় ফেরার সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগ।

শেষ দিকে হাইতি আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছয় মিনিট যোগ করা সময়েও তারা চাপ ধরে রাখে। ৯০ মিনিটের পর পিয়েরো মাটিতে পড়ে থেকেও একটি শট নেন, তবে সেটি স্কটল্যান্ডের জন্য বড় বিপদ হয়নি। অন্যদিকে শেষ ভাগে রক্ষণ জমাট রেখে ম্যাচ শেষ করে স্কটল্যান্ড।

জয় পেলেও স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স নিখুঁত ছিল না। বলের দখলে তারা সামান্য এগিয়ে থাকলেও হাইতি বারবার তাদের ভুল ধরার চেষ্টা করেছে। তবু বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে তিন পয়েন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কাজটা করে ফেলল স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ ‘সি’র প্রথম রাউন্ড শেষে স্কটল্যান্ড এখন সুবিধাজনক অবস্থানে। একই গ্রুপে ব্রাজিল ও মরক্কো নিজেদের ম্যাচে ১-১ ড্র করেছে। তাই প্রথম ম্যাচের পর তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেল স্কটল্যান্ড। হাইটির সামনে এখন আরও কঠিন পথ; পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল।

হাইটির জন্য দিনটি ছিল আবেগের। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে জাতীয় সংগীত শুনেছে তারা। তবে মাঠের ফল তাদের পক্ষে যায়নি। লড়াই, গতি ও সাহস দেখালেও শেষ পর্যন্ত গোলের অভাবেই পয়েন্ট পাওয়া হলো না।