ইতালি না থাকলেও বিশ্বকাপে থাকছেন ইতালিতে জন্ম নেওয়া সারকাতি

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে নেই ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি আরেকটি বড় হতাশা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির ছোঁয়া একেবারে থাকছে না, তা নয়। ইতালিতে জন্ম নেওয়া আলেসান্দ্রো সারকাতি খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে।
২২ বছর বয়সি সারকাতির জন্ম ইতালির ফিদেনজায়। তবে তার ফুটবলের বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়। তার বাবা কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর কারণে পরিবার পাড়ি জমায় পার্থে। সেখানেই ফুটবলের প্রথম পাঠ নেন সারকাতি। পরে পার্থ গ্লোরিতে নজর কাড়েন তিনি।
২০২১ সালে যোগ দেন পারমায়, যে ক্লাবটি তার জন্ম যে প্রদেশে তারই দল। তখন পারমা খেলছিল সিরি বি-তে। পরের বছর ইতালির অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডাকও পেয়েছিলেন সারকাতি। জার্মানি ও নরওয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনা করেছিল ইতালি।
তবে সিনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ পর্যন্ত ইতালি নয়, অস্ট্রেলিয়াকেই বেছে নেন এই সেন্টারব্যাক। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার তখনকার কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড তাকে দলে ডাকেন। আর্নল্ডই সারকাতিকে বোঝান, সকারুজদের হয়ে তার সামনে সুযোগ বেশি।
২০২৩ সালের জুনে বেইজিংয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পান সারকাতি। সেই ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার। পরে অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরেক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক হয় তার।
সারকাতির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা ছিল ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফনের। পারমায় দুই মৌসুম বুফনের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন তিনি। ইতালি না অস্ট্রেলিয়া, কোন দেশকে বেছে নেবেন, সেই দ্বিধার সময় বুফনের কাছেই পরামর্শ চান সারকাতি।
সারকাতি জানিয়েছেন, তখন বুফন তাকে নিজের ভেতরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে বলেছিলেন। অন্য সবকিছু ভুলে গিয়ে হৃদয় কী বলছে, সেটাই ভাবতে বলেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি। সেই কথোপকথনের পাঁচ দিন পরই অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবেও অভিষেক হয়েছে সারকাতির। এখন সামনে আরও বড় মঞ্চ। ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া আছে গ্রুপ ‘ডি’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ ১৩ জুন, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে। ইতালি বাইরে থেকে দেখবে বিশ্বকাপ, আর সেই মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ সামলাতে নামবেন ইতালিতেই জন্ম নেওয়া সারকাতি।
