বিশ্বকাপের টিকিট বিতর্কে তদন্তের মুখে ফিফা

মাঠে বল গড়ানোর আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে বড় বিতর্কে পড়েছে ফিফা। চড়া দাম, টিকিট বিক্রিতে বিভ্রান্তি এবং আসনের অবস্থান নিয়ে সমর্থকদের অভিযোগের পর ফিফার কাছে অভ্যন্তরীণ তথ্য চেয়েছে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্ট যৌথভাবে জানিয়েছেন, ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট বিক্রি কীভাবে হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই আট ম্যাচের মধ্যে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালও আছে।
তদন্তকারীদের নজরে আছে ফিফার টিকিট প্রকাশের সময়সূচি, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য এবং বিক্রির পদ্ধতি। অভিযোগ উঠেছে, টিকিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সমর্থকদের আসনের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবার ডায়নামিক প্রাইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে ফিফা। অর্থাৎ চাহিদা বাড়লে টিকিটের দামও বদলাচ্ছে। এই পদ্ধতি নিয়ে আগে থেকেই সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলদের দাবি, অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মধ্যে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচের অধিকাংশ টিকিটের দাম বেড়েছে। প্রধান তিনটি ক্যাটাগরিতে গড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
আসন বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ গুরুতর। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রাথমিক সিট ম্যাপে চারটি জোন দেখানো হয়েছিল। সবচেয়ে ভালো অবস্থানের আসন ছিল ‘ক্যাটাগরি ১’-এ। কিন্তু অনেক সমর্থক টিকিট কেনার পর ফিফা নতুন করে ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ জোন তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি ক্যাটাগরির সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসনগুলো রাখা হয় এবং সেগুলোর দাম ছিল আরও বেশি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আগে টিকিট কেনা অনেক সমর্থক সেই ভালো আসন পাননি। কেউ কেউ মাঠ থেকে দূরের আসন পেয়েছেন, আবার কারও আসন পড়েছে গোলপোস্টের পেছনে। কিছু সমর্থক দাবি করেছেন, তারা যে ক্যাটাগরির টিকিট কিনেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই মানের আসনও পাননি।
ফিফা এ বিষয়ে ইএসপিএনের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এর আগে টিকিটের উচ্চমূল্যকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন বাজার বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বাজারগুলোর একটি, তাই বাজারদর বিবেচনা করেই টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যাভেনপোর্ট অবশ্য কড়া ভাষায় বলেছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্মান কোনোভাবেই স্থানীয় মানুষ ও দর্শকদের শোষণের সুযোগ হতে পারে না।
এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টাও ফিফার কাছে টিকিট বিক্রি-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়াম ও লেভাইস স্টেডিয়ামেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে।
