আকাশছোঁয়া দামে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট, ভাঙল সব রেকর্ড

বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠে গড়ানোর আগেই আরেকটি ইতিহাস গড়েছে। আর্জেন্টিনা-স্পেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের (গেট-ইন) টিকিটের মূল্য ৬ হাজার ৯৪৩ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। যদিও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল আরও বেশি ৭ হাজার ২০০ ডলার (৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা)।
তবে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলার (১৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা)। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ গড় টিকিট মূল্য।
বর্তমানে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫-এ সেকশনের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলার (৩৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা)।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্ট ছিল ২০২৪ সালের সুপার বোল, যেখানে সান ফ্রান্সিসকো ৪৯ইয়ার্স ও কানসাস সিটি চিফসের ম্যাচের গড় টিকিট মূল্য ছিল ৯ হাজার ৪১১ ডলার (১১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল।
রোববারের ফাইনাল শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি দুই প্রজন্মের দুই তারকারও মুখোমুখি হওয়া। প্রায় দুই দশক আগে লিওনেল মেসি এক দাতব্য ফটোশুটে পাঁচ মাস বয়সি এক শিশুকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন। সেই শিশুই আজ স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভাইরাল সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে মেসি বলেন, সত্যি বলতে, ছবিটা অবিশ্বাস্য। জীবনের কী অদ্ভুত পরিক্রমা! তখন সে ছিল শিশু, আর আজ আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের প্রতিপক্ষ।
২০০৭ সালে ছবিটি তোলা হয়েছিল। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর এবং তিনি বার্সেলোনার মূল দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার পথে ছিলেন। অন্যদিকে ইয়ামালের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস।
ইয়ামালের প্রশংসা করে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, লামিনে অসাধারণ প্রতিভাবান। সে এমন একটি ক্লাবে খেলছে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। তাই আমি সবসময় চাই সে ভালো করুক। ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সামনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে।
তবে ফাইনালের প্রসঙ্গে মেসির কণ্ঠে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুরও। তিনি বলেন, সে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু অন্তত এই ম্যাচে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সেটা না হয়। তারপরও তার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে।
মেসি বলেন, এ মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার সাফল্য বার্সেলোনার জন্যও ইতিবাচক, তাই আমি সব সময় তার মঙ্গল কামনা করি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও শিশু ইয়ামালের সেই ছবিটি প্রকাশ করলে তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
.png)






