টরন্টোতে কানাডার স্বপ্নের শুরু, বাধা বসনিয়া

বিশ্বকাপের মঞ্চে কানাডার জন্য এমন রাত আগে কখনো আসেনি। ঘরের মাঠে, নিজেদের দর্শকের সামনে, পুরুষ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে তারা। টরন্টো স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে কানাডার প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। কানাডার জন্য এটি শুধু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ নয়, ইতিহাস বদলানোর সুযোগও। কারণ, বিশ্বকাপে এখনও কোনো ম্যাচ জেতেনি তারা। ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে ছয়টিতেই হেরেছিল কানাডা। এবার সহআয়োজক হিসেবে সেই রেকর্ড বদলানোর চাপ ও সুযোগ—দুটিই তাদের সামনে।
জেসি মার্শের দল অবশ্য এবার আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা রক্ষণে অনেক বেশি সংগঠিত, আক্রমণেও দ্রুত। জোনাথন ডেভিড, সাইল লারিন, তাজন বুকানানদের নিয়ে তাদের আক্রমণে গতি ও সরাসরি গোলের হুমকি আছে। ঘরের মাঠের দর্শক সেই শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে কানাডার বড় ধাক্কা আলফনসো ডেভিসকে নিয়ে। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা চোট কাটিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত নন। তাই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না কানাডা। ডেভিস না থাকায় কানাডার বাঁ দিকের আক্রমণ, ট্রানজিশন ও গতির উৎসে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বসনিয়ার গল্পটা ভিন্ন। তারা এসেছে আন্ডারডগ হিসেবে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে দলটি। বাছাইপর্বে কঠিন পথ পেরিয়ে, প্লে-অফে ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে বসনিয়া। তাই তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বসনিয়া কোচ সের্গেই বারবারেজ ম্যাচের আগে বলেছেন, তার দল হৃদয় দিয়ে খেলবে। ছোট দেশ হলেও তারা নিজেদের প্রমাণ করতে চায় বিশ্বমঞ্চে। এই মানসিকতাই বসনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
দলের সবচেয়ে বড় নাম এখনও এদিন জেকো। ৪০ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকার বসনিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কাঁধের চোট কাটিয়ে তিনি ম্যাচের স্কোয়াডে থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ। জেকোর অভিজ্ঞতা, পজিশনিং ও বক্সের ভেতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কানাডার রক্ষণের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
কানাডা খেলতে চাইবে উচ্চগতির প্রেসিং ও দ্রুত আক্রমণে। মার্শের ফুটবলের মূল শক্তি প্রতিপক্ষকে বল নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে না দেওয়া। মাঝমাঠে স্টিফেন ইউস্তাকিও ও ইসমায়েল কোনের ভূমিকা তাই গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি বল কাড়ার পর দ্রুত ডেভিড বা লারিনকে খুঁজে নিতে পারেন, বসনিয়ার রক্ষণ বারবার চাপে পড়বে।
অন্যদিকে বসনিয়া হয়তো শুরুতে ম্যাচের গতি কমিয়ে আনতে চাইবে। তারা সেট পিস, লম্বা বল এবং জেকোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে। কানাডা যদি বেশি উঁচুতে উঠে যায়, বসনিয়ার পাল্টা আক্রমণও বিপজ্জনক হতে পারে।
এই ম্যাচের আরেকটি বড় দিক মানসিক চাপ। কানাডা ঘরের মাঠে খেলছে, তাই প্রত্যাশা বেশি। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে নকআউটের পথে বড় পদক্ষেপ হয়ে যাবে। কিন্তু দ্রুত গোল না পেলে সেই চাপই উল্টো কানাডার ওপর ফিরে আসতে পারে।
বসনিয়ার জন্য চাপ তুলনামূলক কম। তারা আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করবে, কিন্তু সেই জায়গাটিই তাদের সুবিধা। ড্র পেলেও সেটি তাদের জন্য ভালো ফল হতে পারে। আর কানাডাকে চমকে দিতে পারলে গ্রুপ ‘বি’র হিসাব শুরুতেই বদলে যাবে।
সম্ভাব্য একাদশ
কানাডা: ম্যাক্সিম ক্রেপো; অ্যালিস্টার জনস্টন, ডেরেক কর্নেলিয়াস, লুক দে ফুগেরোল, রিচি লারিয়া; স্টিফেন ইউস্তাকিও, ইসমায়েল কোনে; তাজন বুকানান, লিয়াম মিলার; জোনাথন ডেভিড, সাইল লারিন।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: নিকোলা ভাসিল; আমার দেদিচ, ডেনিস হাদজিকাদুনিচ, সেয়াদ কোলাসিনাচ, নিকোলা কাটিচ; আমির হাদজিয়াহমেতোভিচ, বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ, আরমিন গিগোভিচ; এসমির বাজরাকতারেভিচ, এরমেদিন দেমিরোভিচ, এদিন জেকো।
নজর থাকবে যাদের ওপর
জোনাথন ডেভিড: কানাডার গোলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বক্সে তার মুভমেন্ট ও ফিনিশিং বসনিয়ার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখবে।
এদিন জেকো: বয়স ৪০ হলেও অভিজ্ঞতা ও গোল করার প্রবৃত্তি এখনো বসনিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
স্টিফেন ইউস্তাকিও: ডেভিস না থাকায় মাঝমাঠ থেকে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত আক্রমণ শুরু করার দায়িত্ব আরও বাড়বে তার।
লিয়াম মিলার ও তাজন বুকানান: দুই প্রান্তে কানাডার আক্রমণের গতি নির্ধারণ করবেন তারা।
প্রেডিকশন
ঘরের মাঠ, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং আক্রমণের গভীরতা মিলিয়ে কানাডা সামান্য এগিয়ে। তবে ডেভিসের অনুপস্থিতি তাদের জন্য বড় ধাক্কা। বসনিয়ার অভিজ্ঞতা, সেট পিস হুমকি এবং জেকোর উপস্থিতি ম্যাচকে কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডা যদি প্রথম ৩০ মিনিটের আবেগ ও চাপ সামলে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে, জয় তাদের দিকেই যেতে পারে।
সম্ভাব্য ফল: কানাডা ২-১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
.png)

