logo

মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক

মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক
messi hattrick (1)

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে রেকর্ডের রাত অনেক এসেছে। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে রাতটি আলাদা হয়ে থাকবে অন্য কারণে। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে শুধু গোল করেননি তিনি, করেছেন হ্যাটট্রিকও। আর সেই হ্যাটট্রিকেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

কানসাসের অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জে’র ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৭৬ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে তার দুর্দান্ত শটে পূর্ণ হয় হ্যাটট্রিক। গোলের সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। শুধু ম্যাচের ব্যবধানই বাড়েনি, বিশ্বকাপের রেকর্ডবইতেও নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে।

ম্যাচের শুরুতেই মেসির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। আলজেরিয়া গোলরক্ষক জিদানে বল ছুঁয়েছিলেন, কিন্তু শটের গতি ও বাঁক সামলাতে পারেননি।

দ্বিতীয় গোলটি আসে ৬০ মিনিটে। এবার বড় ভুল করেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। বক্সের ভেতরে বল ঠিকমতো ধরে রাখতে না পারায় সেটি সামনে পড়ে যায়। সঠিক জায়গায় থাকা মেসি সুযোগ নষ্ট করেননি। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

এরপর ৭৬ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়, আর বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা এত দিন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। এবার সেই রেকর্ডে তার পাশে বসে গেলেন মেসি।

এই হ্যাটট্রিক আরও বিশেষ, কারণ ম্যাচটি মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ৩৮ বছর বয়সে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসে এমন পারফরম্যান্স যেন তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আরেকটি অবিশ্বাস্য সংযোজন। ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে গোল পাননি। এরপর ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা চার বিশ্বকাপে গোল করলেন তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা বিরল ফুটবলারদের তালিকায়ও তাঁর জায়গা আরও উজ্জ্বল হলো।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি ছিল শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরু। প্রথমার্ধে আলজেরিয়া একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরে অফসাইডে তা বাতিল হয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টাররা বলের দখল ধরে রাখেন, আর সামনে মেসি বারবার আলজেরিয়ার রক্ষণকে বিপদে ফেলেন।

তবে রাতের সব আলো শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তির ওপরই এসে পড়ে। ২০০তম ম্যাচ, বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক, ক্লোসের রেকর্ড ছোঁয়া—সব মিলিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির এই পারফরম্যান্স তার কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় রাতগুলোর একটিতে পরিণত হলো।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত দিন ক্লোসের ১৬ গোল ছিল সর্বোচ্চ শিখর। এখন সেই শিখরে আরেকজনের নামও লেখা—লিওনেল মেসি।