বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মিশরের জার্সি বদলের নির্দেশ ফিফার

বিশ্বকাপ শুরু হতেই মাঠের বাইরের আলোচনায় জড়াল মিশর। মোহাম্মদ সালাহদের জার্সি নিয়ে আপত্তি তুলেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জার্সিতে দুটি পরিবর্তন আনতে বলেছে।
প্রথম আপত্তি মিশরের ক্রেস্টের ওপরে থাকা সাতটি তারকা নিয়ে। এই সাত তারকা আফ্রিকান নেশনস কাপে মিশরের সাত শিরোপার প্রতীক। ১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ সালে আফ্রিকার সেরা হয়েছিল ‘ফারাওরা’। আফ্রিকান নেশনস কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলও মিশর।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই মহাদেশীয় সাফল্যের প্রতীক জার্সিতে রাখা যাবে না বলে জানিয়েছে ফিফা। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফিফার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের জার্সিতে শুধু বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক তারকাই ব্যবহার করা যাবে। তাই আফ্রিকান নেশনস কাপের শিরোপার জন্য রাখা সাত তারকা সরাতে হবে মিশরকে।
মিশরের জন্য বিষয়টি প্রতীকীভাবেও বড় ধাক্কা। দেশটির ফুটবল পরিচয়ের সঙ্গে এই সাত তারকা অনেক দিন ধরেই জড়িয়ে আছে। আফ্রিকায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক হিসেবেই জার্সির বুকে সেগুলো বহন করে আসছিল মিশর। কিন্তু বিশ্বকাপের নিয়মে সেই আবেগের জায়গা রাখা যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় পরিবর্তন জার্সির নম্বর নিয়ে। মিশরের জার্সিতে খেলোয়াড়দের নম্বর সোনালি রঙে দেওয়া ছিল। সেটিও বদলাতে বলেছে ফিফা। টেলিভিশন সম্প্রচার, ম্যাচ পরিচালনা ও দর্শকদের সুবিধার জন্য নম্বর যেন আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, সে কারণেই সোনালির বদলে সাদা নম্বর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নম্বরের রং বদলের বিষয়টি তাদের কাছে নতুন নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানত। সংশোধিত জার্সি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মিশরের প্রথম ম্যাচের আগেই প্রস্তুত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’তে আছে মিশর। তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে আছে বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। সোমবার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সালাহদের দল।
মিশরের এটি বিশ্বকাপে চতুর্থ অংশগ্রহণ। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে তারা এখনো বড় সাফল্যের দেখা পায়নি। এবার সালাহর নেতৃত্বে সেই হতাশা কাটানোর আশা তাদের। কিন্তু মাঠে নামার আগেই জার্সি নিয়ে ফিফার নির্দেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিল।
