logo

কানাডাকে হারিয়ে গ্রুপসেরা সুইজারল্যান্ড, কাতারকে বিদায় করে আশায় বসনিয়া

কানাডাকে হারিয়ে গ্রুপসেরা সুইজারল্যান্ড, কাতারকে বিদায় করে আশায় বসনিয়া
কানাডাকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-এর শেষ দিন বদলে দিল শেষ ৩২-এর পথ। কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হলো সুইজারল্যান্ড। একই সময়ে সিয়াটলে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। আর এই হারে কাতারের বিশ্বকাপ শেষ।

শেষ রাউন্ডের আগে কানাডা ও সুইজারল্যান্ড দুই দলই ৪ পয়েন্টে ছিল। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগ ছিল সহ-আয়োজক কানাডার সামনে। কিন্তু ভ্যানকুভারে সেই হিসাব বদলে দেন জোহান মানজাম্বি। এক গোল ও এক গোলে ভূমিকা রেখে সুইজারল্যান্ডকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ জয়।

প্রথমার্ধে দুই দলই সাবধানী ফুটবল খেললেও গোল পায়নি কেউ। বিরতির পর দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল করেন রুবেন ভারগাস। ডান দিক থেকে সুইস আক্রমণে মানজাম্বির পাস বক্সে পৌঁছালে বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন ভারগাস।

৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মানজাম্বি নিজেই। লুকা জাকেজের দীর্ঘ পাস ধরে ব্রিল এমবোলো কানাডার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। এরপর সুযোগ বুঝে বল দেন মানজাম্বিকে। নিচু শটে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তরুণ এই ফুটবলার। এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল তিনে।

কানাডা অবশ্য হাল ছাড়েনি। বিরতির পর বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। ৭৬ মিনিটে বদলি নামা প্রমিস ডেভিড প্রথম স্পর্শেই গোল করে ব্যবধান কমান। নাথান সালিবার পাস থেকে ভলিতে গোল করেন তিনি। এরপর শেষ দিকে কানাডা চাপ বাড়ালেও সমতা ফেরাতে পারেনি। ফলে ২-১ জয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।

এই ফলের বড় প্রভাব পড়েছে কানাডার শেষ ৩২-এর পথেও। গ্রুপসেরা হলে ভ্যানকুভারেই পরের ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকত তাদের। কিন্তু দ্বিতীয় হওয়ায় এখন তাদের যেতে হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে গ্রুপ ‘এ’-এর দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে কানাডা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড ভ্যানকুভারেই থাকবে এবং শেষ ৩২-এ খেলবে অন্য গ্রুপের কোনো তৃতীয় দলের বিপক্ষে।

একই সময়ে সিয়াটলে নিজেদের কাজ সেরে রাখে বসনিয়া। কাতারের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল তারা। ২৯ মিনিটে কেরিম-সাম আলাইবেগোভিচের দারুণ শটে এগিয়ে যায় সার্গেই বারবারেজের দল। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তাঁর শট জালে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় বসনিয়া।

পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান হয় ২-০। বাম দিক থেকে আসা বল এদিন ১৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এদিন জেকো ভলিতে গোলমুখে ফেরান। বল কাতারের সুলতান আলব্রাকের গায়ে লেগে জালে যায়। গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে ধরা হয়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কাতার ম্যাচে ফেরার আশা দেখায়। ৪২ মিনিটে অধিনায়ক হাসান আল-হায়দোস কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। বিরতির আগেই তারা সমতার কাছেও গিয়েছিল। পেদ্রো মিগেলের শট পোস্টে লাগে। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়েই যায় কাতার।

দ্বিতীয়ার্ধে কাতার আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। আক্রমণে বিকল্পও ব্যবহার করেন কোচ হুলেন লোপেতেগি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের চাপ যথেষ্ট হয়নি। ৮০ মিনিটে এরমিন মাহমিচ গোল করে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। এতে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে চার পয়েন্টে গ্রুপ শেষ করে বসনিয়া।

বসনিয়ার জন্য জয়টি ঐতিহাসিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তারা সরাসরি শীর্ষ দুইয়ে উঠতে পারেনি, কারণ কানাডার সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় হয়েছে। তবে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর দৌড়ে তাদের অবস্থান শক্ত। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে ১২ গ্রুপের সেরা আট তৃতীয় দল শেষ ৩২-এ যাবে। সেই হিসেবে বসনিয়ার সামনে এখন প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার বড় সুযোগ।

অন্যদিকে কাতারের জন্য রাতটি হতাশার। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করলেও এরপর কানাডার কাছে ৬-০ এবং বসনিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারে তারা। এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শেষ স্থানে থেকে বিদায় নিল লোপেতেগির দল।

গ্রুপ ‘বি’-এর চূড়ান্ত অবস্থান

 দল ম্যাচ পয়েন্ট গোল ব্যবধান অবস্থা
 সুইজারল্যান্ড ৩ ৭ +৪ শেষ ৩২ নিশ্চিত
 কানাডা ৩ ৪ +৫ শেষ ৩২ নিশ্চিত
 বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৩ ৪ -১ সেরা তৃতীয় দলের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে
 কাতার  ৩ ১ -৮ বিদায়

সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শেষ দিন ছিল পথ বদলের দিন। সুইজারল্যান্ড নিজেদের পরিকল্পনা মতো ভ্যানকুভারে থেকে গেল, কানাডাকে যেতে হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেসে, আর বসনিয়া অপেক্ষা করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলের। তবে কাতারের জন্য অঙ্ক শেষ।