কাতার ধাক্কা ভুলে বসনিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইজারল্যান্ড

প্রথম ম্যাচে কাতারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ড্র সুইজারল্যান্ডকে চাপে ফেলেছিল। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তাই তাদের সামনে ছিল শুধু জয়ের হিসাব। সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয় পেল সুইসরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রুপ ‘বি’র ম্যাচে বসনিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের পথ আবার ঠিক দিকে ফেরাল সুইজারল্যান্ড।
স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির, ম্যাচের শুরুটা সুইজারল্যান্ডের জন্য ততটা সহজ ছিল না। বলের দখল, আক্রমণ, মাঠের নিয়ন্ত্রণ, সবই ছিল তাদের হাতে। কিন্তু কাতারের বিপক্ষে যেমন শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল, বসনিয়ার বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় সেই সমস্যাই ফিরে আসে। ড্যান এনদোয়ের শট পাশের জালে লাগে। দুই প্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণ গড়েও বসনিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা।
বসনিয়ার বড় খবর ছিল এদিন জেকোর ফেরা। ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ২০১৪ বিশ্বকাপের পর আবার বড় মঞ্চে ফিরলেন। কিন্তু ম্যাচে তার প্রভাব ছিল সীমিত। চোট কাটিয়ে ফিরে আসা এবং বয়সের ভার, দুটিই যেন তার খেলায় স্পষ্ট ছিল। প্রথমার্ধে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি বসনিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। সুইজারল্যান্ড এগোতে চাইছে, বসনিয়া অপেক্ষা করছে। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই ম্যাচটা সুইসদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠছিল। আরেকটি ড্র হলে শেষ ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে চাপ আরও বেড়ে যেত।
ঠিক তখনই বদলি খেলোয়াড়দের হাত ধরে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রুবেন ভারগাস ও জোহান মানজাম্বিকে নামানোর পর সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে গতি ও ধার দুটোই বাড়ে। বাম দিক থেকে ভারগাসের ক্রস বসনিয়ার রক্ষণ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি। বল পেয়ে ভলিতে জালে পাঠান মানজাম্বি। প্রায় প্রথম ছোঁয়াতেই গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বসনিয়া। ব্রিল এমবোলোকে শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফেলে দেওয়ায় তারিক মুহারেমোভিচ সরাসরি লাল কার্ড দেখলে তাদের কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। ১০ জনের বসনিয়া তখন ক্রমেই ভেঙে পড়ে।
শেষ দিকে মানজাম্বি ও ভারগাসের বোঝাপড়া আরও একবার ফল দেয়। এবার মানজাম্বির পাস থেকে নিচু শটে গোল করেন ভারগাস। কিছুক্ষণ পর আবারও দুজনের সমন্বয়ে তৃতীয় গোল পায় সুইজারল্যান্ড। মানজাম্বি করেন নিজের দ্বিতীয় গোল।
যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ভলিতে একটি গোল শোধ করেন মাহমিচ। তবে সেটি বসনিয়ার জন্য শুধু সান্ত্বনা হয়েই থাকে। ম্যাচের শেষ আক্রমণে মানুয়েল আকাঞ্জিকে বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পটকিক থেকে গ্রানিত জাকা গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন।
এই জয়ে কাতার ম্যাচের হতাশা অনেকটাই কাটাল সুইজারল্যান্ড। শুধু তিন পয়েন্ট নয়, গোল ব্যবধানও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বসনিয়ার জন্য পরিস্থিতি এখন কঠিন। শেষ ম্যাচে তাদের শুধু ভালো খেললেই হবে না, জিততেই হবে।
সুইজারল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের দখল ও আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে পেরেছে। কাতারের বিপক্ষে যে ফিনিশিং ব্যর্থতা তাদের ভুগিয়েছিল, বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড়রাই সেই সমস্যা মিটিয়ে দিলেন।
