logo

বিশ্বকাপে প্রথমবার ব্যবহৃত ‘ভুল পরিচয়’ নিয়ম কী

বিশ্বকাপে প্রথমবার ব্যবহৃত ‘ভুল পরিচয়’ নিয়ম কী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে গোলের বাইরেও আলোচনায় এসেছে ভিএআরের নতুন প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্র অধিনায়ক টিম রিমকে দেখানো হলুদ কার্ড ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হওয়ার পর অনেক দর্শকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—এখানে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ‘ভুল পরিচয়’ নিয়ম আসলে কী?

সহজভাবে বললে, ভুল পরিচয় ঘটে তখন, যখন রেফারি কোনো ঘটনায় ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেন। অর্থাৎ কার্ড দেখানো হয়েছে, কিন্তু যাকে কার্ড দেখানো হয়েছে, তিনি ওই ঘটনার জন্য দায়ী নন। এমন পরিস্থিতিতে ভিএআর রেফারিকে জানাতে পারে যে সিদ্ধান্তে ভুল হয়েছে এবং কার্ডটি সঠিক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয়ার্ধে। প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন পড়ে গেলে শুরুতে রেফারি ড্যানি মাকেলি মনে করেন, তাঁকে ফাউল করেছেন যুক্তরাষ্ট্র অধিনায়ক টিম রিম। সেই সিদ্ধান্তে রিমকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

কিন্তু এরপর ভিএআর রেফারিকে ঘটনাটি আবার দেখতে বলে। রিপ্লে দেখে মাকেলি বুঝতে পারেন, রিম আলমিরনকে ফাউল করেননি। এরপর রিমের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়। উল্টো ফাউল আদায়ের অভিনয়ের জন্য আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

এখানেই ‘ভুল পরিচয়’ নিয়মের গুরুত্ব। আগে ভিএআরের আলোচনায় সাধারণত গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড বা গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত বেশি সামনে আসত। কিন্তু নতুন পরিবর্তনের ফলে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

আইএফএবির নিয়ম অনুযায়ী, রেফারি যদি কোনো ঘটনায় হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, কিন্তু পরিষ্কারভাবে ভুল খেলোয়াড়কে দায়ী করেন, ভিএআর তাঁকে সাহায্য করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—শুধু একই দলের ভুল খেলোয়াড় নয়, অন্য দলের খেলোয়াড়কে ভুলভাবে কার্ড দেখানো হলেও সেটি সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সেই নিয়মের প্রয়োগ
সেই নিয়মের প্রয়োগ

তবে এই নিয়মের একটি সীমা আছে। ভিএআর প্রতিটি সাধারণ ফাউল নতুন করে বিচার করার জন্য হস্তক্ষেপ করবে না। মূল উদ্দেশ্য হলো কার্ডটি ভুল খেলোয়াড়ের নামে গেছে কি না, সেটি দেখা। অর্থাৎ ঘটনার সঙ্গে শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ের সম্পর্ক আছে কি না, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের ঘটনাটি তাই নিয়মটির খুব পরিষ্কার উদাহরণ। প্রথমে শাস্তি পেয়েছিলেন রিম। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, তিনি দায়ী নন। ফলে কার্ড তাঁর নাম থেকে সরিয়ে আলমিরনের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়।

এই নিয়ম খেলোয়াড়দের জন্য বড় সুরক্ষা। কারণ একটি ভুল হলুদ কার্ডও বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কার্ড জমলে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলোয়াড়কে হারাতে পারে দল। তাই ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর ঝুঁকি কমাতে ভিএআরের এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর আরও কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি ক্ষমতা পেয়েছে। পরিষ্কার ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে আসা লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করা যাবে। কিছু প্রতিযোগিতায় ভুল কর্নার সিদ্ধান্তও দ্রুত সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যদি সেটি খেলা বিলম্ব না করে করা যায়।

ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে এই নিয়ম দেখাল, ভিএআর শুধু গোল বা পেনাল্টি সিদ্ধান্তের জন্য নয়, খেলোয়াড়কে ভুল শাস্তি থেকে বাঁচাতেও কাজে লাগতে পারে।