বন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে রবার্টসন

স্কটল্যান্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ দীর্ঘ ২৬ বছরের এক মহাপ্রতীক্ষার অবসান। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরছে ‘ট্যান্টান আর্মি’রা। তবে দলটির অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের কাছে এই বিশ্বকাপ শুধু দেশের হয়ে খেলার পরম গৌরব নয়, এর চেয়েও গভীর এক ব্যক্তিগত আবেগের গল্প। তিনি এবার মাঠে নামছেন শুধু নিজের জন্য কিংবা দেশের জন্য নয়, বরং তাঁর অকালপ্রয়াত প্রিয় বন্ধু ও লিভারপুলের সাবেক সতীর্থ ডিয়োগো জোতার অপূর্ণ স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে।
ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলে একসঙ্গে খেলার সুবাদে রবার্টসন ও জোতার সম্পর্ক শুধু মাঠের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; মাঠের বাইরেও তা রূপ নিয়েছিল গভীর বন্ধুত্বে। বিশ্বমঞ্চে দেশের হয়ে খেলার সেই চেনা স্বপ্ন নিয়ে দুজনের মধ্যে কত কথাই না হতো! কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ে এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে যান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জোতা। বন্ধুর সেই অসমাপ্ত স্বপ্নই এখন স্কটিশ ডিফেন্ডার রবার্টসনের বিশ্বকাপ যাত্রার প্রধান চালানি।
ফিফার বিশেষ আয়োজন ‘লেটার্স দ্যাট ইউনাইট’ (Letters That Unite) ফিচারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি জোতার স্ত্রী রুতে কার্দোসোর লেখা একটি চিঠি পড়েন রবার্টসন। চিঠিতে রুতে লিখেছেন, জোতা প্রায়শই রবার্টসনের কথা বলতেন তাদের অটুট বন্ধন, মাঠের লড়াই আর ফুটবল নিয়ে ভাগ করে নেওয়া লালিত স্বপ্নের কথা। বিশ্বকাপ ছিল তাঁদের সেই অভিন্ন আবেগের কেন্দ্রবিন্দু, যা দুজনেই সমভাবে লালন করতেন।
রুতের চিঠির সেই আবেগঘন বার্তা: ‘স্কটল্যান্ড যখন বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে, রবার্টসন জানিয়েছিলেন তাঁর প্রথম জোতার কথাই মনে পড়েছিল। এই কথাটি শোনার পর মনে হয়েছে জোতা আসলে কখনোই মাঠ ছেড়ে যাননি। রবার্টসন যখন বিশ্বকাপের মাঠে পা রাখবেন, তিনি একা যাবেন না; তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে জড়িয়ে থাকবে জোতার নীরব উপস্থিতি।’

চিঠিটি পড়ার সময় আবেগ ধরে রাখা কঠিন ছিল স্কটল্যান্ড অধিনায়কের জন্য। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এমন কঠিন সময়ে রুতের কাছ থেকে চিঠি পাওয়া তাঁর জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। সেই সাথে বিশ্বমঞ্চে জোতার স্মৃতি, তাঁর নাম ও তাঁদের যৌথ স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন এই স্কটিশ তারকা। রবার্টসনের ভাষায়, তিনি এখন মাঠে দুজনের প্রতিনিধি হয়ে লড়ছেন।
প্রায় তিন দশক পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা স্কটল্যান্ডের জন্য গ্রুপ ‘সি’-তে হাইতি, মরক্কো ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। তবে মাঠের কঠিন সমীকরণের মাঝেও রবার্টসনের এই মানবিক গল্পটি ২০২৬ বিশ্বকাপকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ফুটবল মানেই তো শুধু জয়-পরাজয়, গোল আর রেকর্ডের শুষ্ক খতিয়ান নয়; এটি কখনো কখনো গভীর ভালোবাসার এক জীবন্ত স্মারকও। রবার্টসন এবার স্কটল্যান্ডের পতাকা বহনের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বয়ে নিয়ে চলবেন এক পরম বন্ধুর নাম, বন্ধুত্ব ও অসমাপ্ত স্বপ্ন।