logo
Advertisement

মেসির দুই অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসির দুই অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
New Project (2)

শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে ছিল আর্জেন্টিনা। ৬০ বছর পর ফাইনালে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর আগে যে শেষ বাঁশি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, সেটিই আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন লিওনেল মেসিরা।

Advertisement

৮৫ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের দুর্দান্ত গোলে সমতা। যোগ করা সময়ে লাওতারো মার্তিনেসের হেডে জয়। দুটি গোলই বানিয়ে দিলেন মেসি। নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ভোরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যান্থনি গর্ডন। ৫৫ মিনিটে করা তাঁর গোলটি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আগলে রেখেছিল টমাস টুখেলের দল। কিন্তু শেষ পাঁচ মিনিট ও যোগ করা সময়ের আর্জেন্টাইন ঝড়ে ভেঙে যায় তাদের প্রতিরোধ।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফুটবলের চেয়ে উত্তেজনা আর ফাউলই ছিল বেশি। প্রথম ৩০ মিনিটে কোনো দলই একটি শট নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালে বিস্তারিত পরিসংখ্যান রাখা শুরুর পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা এবারই প্রথম। বিরতির আগে দুই দল মিলিয়ে করে ১৯টি ফাউল, গোলমুখে ছিল না একটিও শট। ৩৮ মিনিটে এনজোর বাঁকানো শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়াই ছিল প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য সুযোগ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। ৪৭ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। এর কিছুক্ষণ পর আবার তাঁর প্রচেষ্টা লাগে পাশের জালে। আর্জেন্টিনার চাপের মধ্যেই উল্টো এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ডেকলান রাইসের পাস ধরে ডান দিক থেকে দারুণ ক্রস করেন মরগান রজার্স। নাহুয়েল মোলিনাকে পেছনে ফেলে দূরের পোস্টে বল পেয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করেন গর্ডন। টুখেলের চমক হিসেবে একাদশে জায়গা পাওয়া রজার্সই বানিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলটি।

পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ান লিওনেল স্কালোনি। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় নিকোলাস গঞ্জালেসকে নামান। পরে একই সঙ্গে রদ্রিগো ডি পল, গনসালো মন্তিয়েল ও নিকোলাস ওতামেন্দিকেও মাঠে পাঠান। ৮১ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর জায়গায় লাওতারোকে নামিয়ে আরেকজন আক্রমণকারী বাড়ান আর্জেন্টিনা কোচ।

অন্যদিকে গর্ডনকে তুলে এজরি কনসাকে নামিয়ে রক্ষণ শক্ত করার চেষ্টা করেন টুখেল। পরে ডেকলান রাইস ও রিস জেমসকেও তুলে নেন তিনি। ইংল্যান্ড যত পেছনে সরে যেতে থাকে, মেসিদের চাপ তত বাড়তে থাকে।

৬৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে গঞ্জালেসের শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকান পিকফোর্ড। কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর পারেননি ইংল্যান্ড গোলকিপার। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে আবার বল পান মেসি। তাঁর পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দূরের কোণে অসাধারণ শট নেন এনজো। পিকফোর্ডকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে।

সমতার পরও থামেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লাগে। ফিরে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লাওতারোর দিকে মাপা চিপ করেন মেসি। পিকফোর্ডকে পেরিয়ে হেডে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ৯০+২ মিনিটের সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার জয়।

ম্যাচে ৬৬ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৫টি শট নেয় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের শট ছিল মাত্র পাঁচটি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও আর্জেন্টিনা এগিয়ে ছিল ১.৮০ বনাম ০.৫৪ ব্যবধানে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সপ্তমবার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে পারলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ ধরে রাখবে তারা। বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই রাত ১টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে মেসির দল।