গুলেরের অভিষেক ম্লান করে দিল সকারুরা

বিশ্বকাপ অভিষেকের ম্যাচে আলোটা থাকার কথা ছিল আর্দা গুলেরের ওপর। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা তুরস্কের আশা, সৃজনশীলতা আর ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে গল্পটা লিখলেন অন্য এক তরুণ—অস্ট্রেলিয়ার নেস্টরি ইরানকুন্ডা।
ভ্যানকুভারে গ্রুপ ‘ডি’র ম্যাচে তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে বড় চমক দেখাল অস্ট্রেলিয়া। ইরানকুন্ডার দুর্দান্ত গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে কনর মেটকাফের গোলে জয় নিশ্চিত করে টনি পোপোভিচের দল। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে তুরস্কের শুরুটা তাই হলো হলো হতাশায়।
ম্যাচের শুরুতে তুরস্ক বল বেশি রাখলেও অস্ট্রেলিয়া অপেক্ষা করছিল সঠিক মুহূর্তের। সেই মুহূর্ত আসে ২৭ মিনিটে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তুরস্কের রক্ষণ ভেঙে বেরিয়ে যান ইরানকুন্ডা। গতি, শক্তি আর ঠান্ডা মাথার ফিনিশ—তিনটিই ছিল গোলটিতে। উগুরচান চাকিরকে পরাস্ত করে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
গোলের পর তাঁর উদ্যাপনও নজর কাড়ে। কর্নার ফ্ল্যাগকে পাঞ্চিং ব্যাগের মতো ব্যবহার করে তিনি ফিরিয়ে আনেন টিম কাহিলের ২০০৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটি ছিল শুধু গোল নয়, নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের মুহূর্ত।
তুরস্ক তখনও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, আর সেই চেষ্টার কেন্দ্রে ছিলেন গুলের। প্রথমার্ধে তুরস্কের আক্রমণে যতটা প্রাণ ছিল, তার বেশির ভাগই এসেছে তাঁর পা থেকে। কখনো দূরপাল্লার শট, কখনো বুদ্ধিদীপ্ত পাস, কখনো ছোট জায়গায় ম্যাজিক—গুলের একাই ম্যাচে তুরস্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।
তবে তুরস্কের সমস্যা ছিল শেষ কাজটিতে। আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শট পোস্ট ও অস্ট্রেলিয়া গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ মিলে ঠেকিয়ে দেয়। গুলেরের তৈরি করা কয়েকটি সম্ভাবনাও গোল হয়নি। বলের দখল থাকলেও তুরস্ক অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভাঙার মতো ধারাবাহিকতা পায়নি।
বিরতির পর কেনান ইলদিজ নামার পর তুরস্কের আক্রমণে গতি বাড়ে। গুলেরও আরও বেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়া তখন আরও নিচে নেমে রক্ষণ সামলায়। পোপোভিচ ৬০ মিনিটে ইরানকুন্ডাকে তুলে নেন, যা অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। তুরস্ক তখন চাপ বাড়ায়।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার গোলবারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্যাট্রিক বিচ। ম্যাথু রায়ানের জায়গায় শুরু করা তরুণ গোলকিপার বারবার তুরস্ককে হতাশ করেছেন। চেলিক, আক্তুরকোগলু, গুলের, চালহানোগলু—একাধিক চেষ্টাই তাঁর সামনে এসে থেমেছে।
তুরস্ক যখন সমতার সবচেয়ে কাছে, তখনই দ্বিতীয় ধাক্কা দেয় অস্ট্রেলিয়া। ৭৪ মিনিটে আরেকটি রক্ষণভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কনর মেটকাফ। ২-০ ব্যবধানের পর তুরস্কের ম্যাচে ফেরার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
শেষ দিকে তুরস্ক মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেও গোল পায়নি। গুলের হতাশ, মনতেলার দল ছন্নছাড়া, আর অস্ট্রেলিয়া নিজের পরিকল্পনায় সফল। কম বল রেখেও শৃঙ্খলা, গতি আর কার্যকারিতায় ম্যাচ জিতে নেয় তারা।