logo

প্রেসিডেন্ট-কন্যাকে ‘এড়িয়ে’ বিতর্কে জেমস রদ্রিগেজ

প্রেসিডেন্ট-কন্যাকে ‘এড়িয়ে’ বিতর্কে জেমস রদ্রিগেজ
জেমস রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আগে কলম্বিয়া জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠান। কথা ছিল পতাকা হস্তান্তর, শুভকামনা আর ফুটবল-উৎসবের আবহে কলম্বিয়ার বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হবে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানই এখন দেশটিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে কলম্বিয়া অধিনায়ক জেমস রদ্রিগেজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর কনিষ্ঠ মেয়ে আন্তোনেলা পেত্রোকে নাকি এড়িয়ে গেছেন জেমস। দাবি করা হচ্ছে, আন্তোনেলা ছবি তুলতে বা অভিবাদন জানাতে এগিয়ে গেলে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মঞ্চে অন্যদের সঙ্গে করমর্দন চালিয়ে যান। মুহূর্তটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।

ঘটনাটি ঘটে কলম্বিয়া জাতীয় দলের বিশ্বকাপ-পূর্ব বিদায় অনুষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট পেত্রো দলের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। শেষ মুহূর্তে আয়োজন করা ওই অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না। প্রটোকল অনুযায়ী ফুটবলারদের ঐতিহ্যবাহী ভুয়েলতিয়াও টুপি উপহার দেওয়া হয়।

ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, আন্তোনেলা জেমসের দিকে এগিয়ে যান। এরপরই জেমসকে অন্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এটিকে প্রেসিডেন্টের মেয়ের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। কারণ ভিড়, প্রটোকল এবং মঞ্চের ব্যস্ততার মধ্যে এমন মুহূর্তকে নিশ্চিতভাবে ইচ্ছাকৃত আচরণ বলা কঠিন।

rodriguez controversy
rodriguez controversy

তবে বিতর্ক থামেনি। এক্সে জেমস রদ্রিগেজ ও আন্তোনেলা পেত্রোর নাম দ্রুত ট্রেন্ড করতে শুরু করে। কেউ জেমসের সমালোচনা করেন, কেউ আবার তাঁর পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও দেখে কোনো ফুটবলারের উদ্দেশ্য বিচার করা ঠিক নয়।

শুধু ওই মুহূর্তই নয়, অনুষ্ঠানে ফুটবলারদের মুখভঙ্গি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে কলম্বিয়ার কিছু খেলোয়াড়কে বেশ গম্ভীর দেখা যায়। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় ছবিতেও অনেকের মুখে হাসি কম ছিল বলে মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা।

একটি ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট পেত্রো জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন লুইস দিয়াস, হোর্হে কারাসকাল ও জন আরিয়াসের পাশে। জেমস দাঁড়িয়েছিলেন পেছনের দিকে। এই ছবিও বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দেয়। সমালোচকদের দাবি, দলের একাংশের অস্বস্তি ছবিতেই ধরা পড়েছে।

তবে আরেকটি ছবি সেই ধারণাকে পুরোপুরি জটিল করে তোলে। বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে সান ডিয়েগোর উদ্দেশে বিমানে ওঠার সময় কলম্বিয়ার ফুটবলারদের অনেক বেশি হাসিখুশি ও স্বতঃস্ফূর্ত দেখা যায়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, প্রটোকল অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য কি সত্যিই অস্বস্তির লক্ষণ ছিল, নাকি আনুষ্ঠানিক পরিবেশের স্বাভাবিক প্রভাব?

প্রেসিডেন্ট পেত্রো নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে আন্তোনেলাকে হুয়ান ফের্নান্দো কিন্তেরো, দানিয়েল মুনিয়োস ও জেফারসন লেরমাকে উপহার দিতে দেখা যায়। আরেক ছবিতে প্রেসিডেন্টকে নিজের মেয়েকে আলিঙ্গন করতেও দেখা গেছে।

এই ঘটনা তাই শুধু একটি ছবি বা ভিডিওর বিতর্কে আটকে থাকেনি। এতে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি, জাতীয় দল, প্রটোকল অনুষ্ঠান এবং ফুটবলারদের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা। কলম্বিয়ার মতো ফুটবলপ্রেমী দেশে বিশ্বকাপের আগে এমন বিতর্ক দ্রুত জাতীয় আলোচনায় পরিণত হওয়াই স্বাভাবিক।

জেমস রদ্রিগেজ অবশ্য এখনো এই বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁর নীরবতাও আলোচনাকে বাড়িয়েছে। তবে মাঠের বাইরে এই অস্বস্তি দ্রুত কাটিয়ে বিশ্বকাপে মনোযোগ ফেরানোই এখন কলম্বিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ।