যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকের রেকর্ড গড়ল স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল

স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সম্প্রচারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। দেশটিতে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে ম্যাচটি দেখেছেন।
ইংরেজি ভাষায় ফক্সের সম্প্রচারে দর্শক ছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ। স্প্যানিশ ভাষায় টেলিমুন্ডো ও তাদের অনলাইন মাধ্যম পিককে ম্যাচটি দেখেছেন আরও ২ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে দর্শকসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ।
এই সংখ্যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ফাইনালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। সেবার যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচটি দেখেছিলেন ২ কোটি ২৩ লাখ দর্শক।
গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।
শুধু ফাইনাল নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কয়েকটি ম্যাচও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে দর্শকসংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে। শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচ দেখেছিলেন প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ।
তুলনায় মেজর লিগ বেসবলের ওয়ার্ল্ড সিরিজের সপ্তম ম্যাচে দর্শক ছিল প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ। নিউইয়র্ক নিকসের ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো এনবিএ ফাইনালের পঞ্চম ম্যাচ দেখেছিলেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোলের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি বিশ্বকাপ ফাইনাল। সিয়াটল সিহকস ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মধ্যকার সুপার বোলের দর্শক ছিল প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের জন্য সুবিধাজনক সময়ে ম্যাচ আয়োজন এবং লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার কারণে এবারের আসর ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ১৯৯৪ সালে। এবার কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আসরটি আয়োজন করেছে তারা।
রেকর্ড দর্শকসংখ্যার কারণে সম্প্রচারকদের বিজ্ঞাপন আয়ও বেড়েছে। নকআউট পর্বে ৩০ সেকেন্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞাপনের মূল্য ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০১৮ বিশ্বকাপের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
এবার প্রথমবারের মতো ম্যাচে নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছিল ফিফা। এতে ফক্স অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পায়। শুধু এই বিরতিগুলোর বিজ্ঞাপন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ২৫ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০৩০ বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। এরপর ২০৩৪ সালের আসর আয়োজন করবে সৌদি আরব। সময়ের পার্থক্যের কারণে ওই দুটি আসরে যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকসংখ্যার এই রেকর্ড ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
.png)






