কানাডার ম্যাচ বাদ দিয়ে প্রেমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে ট্রুডো

একই দিনে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে দেখা গেল না নিজের দেশের ম্যাচে। বরং তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচে, লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ভিআইপি স্যুইটে।
কারণটিও খুব জটিল নয়। যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করেন পপ তারকা কেটি পেরি। ট্রুডোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই কানাডার ম্যাচের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে ট্রুডোর উপস্থিতি আলাদা নজর কাড়ে।
দিনের শুরুতে টরন্টোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কানাডা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ম্যাচ, কানাডার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সেই ম্যাচে ছিলেন না দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতের ম্যাচে তাকে দেখা যায় পেরির সঙ্গে সোফাই স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুইটে।
Damn, Katy Perry & Justin Trudeau looking FINE at the World Cup pic.twitter.com/ogigf0wqY8
— kanishk (@kaxishk) June 13, 2026
যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে পারফর্ম করেন কেটি পেরি। এরপর ম্যাচ চলাকালে ট্রুডো ও পেরিকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। তখন মাঠে দাপট দেখাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রও। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে তারা প্যারাগুয়েকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেয়।
ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোল ও প্যারাগুয়ের আত্মঘাতী গোলে প্রথমার্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতে নেয় স্বাগতিকেরা।
কানাডার ম্যাচ শুরু হয়েছিল টরন্টোতে বিকেল ৩টায়। আর যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরু হয় রাত ৯টায়। সময়ের দিক থেকে দুটি ম্যাচে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি অসম্ভব ছিল না। তবে ট্রুডোর দেখা মিলেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচেই।
ফলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মজা করে বলছেন, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচের বদলে প্রেমিকার পারফরম্যান্সকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আবার অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি এমন পার্শ্বগল্পও নজর কাড়ে। কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়—এসবের ভিড়েও ট্রুডো-পেরির উপস্থিতি হয়ে উঠল দিনের আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি।
কানাডা নিজের মাঠে জয় পায়নি, তবে হারও এড়িয়েছে। আর ট্রুডো? তিনি অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে একটি গোলবন্যা, কেটি পেরির পারফরম্যান্স এবং সোফাইয়ের বিশ্বকাপ রাত—সব একসঙ্গে দেখলেন।