logo
Advertisement

এমবাপ্পে-ওলিসে জাদুতে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
এমবাপ্পে-ওলিসে জাদুতে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে থামানোর কোনো পথই খুঁজে পেল না সুইডেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, মাইকেল ওলিসের সৃজনশীলতা আর ব্র্যাডলি বারকোলার ফিনিশিংয়ে ৩-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল দিদিয়ের দেশমের দল।

Advertisement

নিউ জার্সিতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শুরুতে সুইডেন কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। আলেক্সান্দার ইসাক, ভিক্টর জিওকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গার আক্রমণভাগ নিয়ে গ্রাহাম পটারের দল ফ্রান্সকে অস্বস্তিতে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ম্যাচ ততই চলে গেছে ফরাসিদের নিয়ন্ত্রণে।

ফ্রান্সের ফুটবল সব সময় চোখধাঁধানো নয়। দেশমের দল অনেক সময় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে, তারপর হঠাৎ ঝড় তোলে। সুইডেনের বিপক্ষেও দেখা গেল সেই চেনা ছবি। প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। বারকোলা, ওলিসে, দেম্বেলে ও এমবাপ্পে মিলে সুইডিশ রক্ষণকে ব্যস্ত করে রাখেন।

এমবাপ্পে গোলের আগেই কয়েকবার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ২০ মিনিটে বল জালে পাঠালেও অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়। এরপর তার শট পোস্টে লাগে। অলিসও অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টায় গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অবশেষে ৪৫ মিনিটে ভাঙে সুইডেনের রক্ষণ। দেম্বেলের পাস থেকে বল পেয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেন এমবাপ্পে। এরপর নিচু শটে সুইডেন গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন ফ্রান্স অধিনায়ক। প্রথমার্ধ শেষ হয় ফ্রান্সের ১-০ লিডে।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে ওলিসের অসাধারণ পাস থেকে বল পান বারকোলা। পিএসজি ফরোয়ার্ড বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। গোলটি ছিল ওলিসের দৃষ্টিশক্তি ও বারকোলার ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ের মিশ্রণ।

এরপর ম্যাচ আর সুইডেনের নাগালে ছিল না। ফ্রান্স তখন বল দখল, গতি, পাস ও ব্যক্তিগত দক্ষতায় পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছিল। ওলিসে বারবার এমন জায়গায় পাস দিচ্ছিলেন, যেখানে সুইডিশ রক্ষণ পৌঁছাতে পারছিল না। এমবাপ্পে বাম দিক থেকে বারবার জায়গা তৈরি করছিলেন।

৭৪ মিনিটে আসে ফ্রান্সের তৃতীয় গোল। আবারও ওলিসে, আবারও এমবাপ্পে। বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডারের পাস সুইডিশ রক্ষণের ফাঁক খুঁজে নেয়। এমবাপ্পে নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন।

এই জোড়া গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলদাতার তালিকায় আরও ওপরে উঠলেন এমবাপ্পে। তার বিশ্বকাপ গোল এখন ১৮টি। মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে তিনি এখন লিওনেল মেসির ১৯ গোলের ঠিক পেছনে। চলতি আসরেই তাদের ব্যক্তিগত লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এমবাপ্পে শুধু গোল করেননি, নকআউট মঞ্চেও নিজের ভয়ংকর উপস্থিতি আবার প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১০। এমন মঞ্চে সুযোগ পেলেই যে তিনি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন, সুইডেন আবার সেটিই বুঝল।

সুইডেনের জন্য ম্যাচটি হতাশার। ইসাক ও জিওকেরেসের মতো আক্রমণভাগ থাকলেও তারা ফ্রান্সের রক্ষণকে নিয়মিত সমস্যায় ফেলতে পারেনি। শেষ দিকে জিওকেরেস একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু মাইক মাইগনান দারুণ সেভ করে ফ্রান্সের ক্লিন শিট নিশ্চিত করেন।

এমবাপ্পে-ওলিসে জাদুতে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স