ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ঘাঁটির কাছে গোলাগুলি, আহত ৯

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আয়োজক শহর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের নির্ধারিত বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় এক বন্দুকহামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, ইংলিশ দলটি বর্তমানে ফ্লোরিডার পাম বিচে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় বড় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। শনিবার (৬ জুন) ভোরে মিসৌরির কানসাস সিটির ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় এই গুলির ঘটনা ঘটে।
কানসাস সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন জেক বেকিনা জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে গুলির শব্দ শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাটি ইংল্যান্ড দলের নির্ধারিত অনুশীলন ভেন্যু ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’ থেকে পাঁচ মাইলেরও কম এবং গাড়িতে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। এমনকি বিশ্বকাপ চলাকালে থ্রি-লায়ন্সরা যে টিম হোটেল ব্যবহার করবে, সেটিও দুর্ঘটনাস্থল থেকে খুব বেশি দূরে নয়। পুলিশ পৌঁছানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে বড় একটি ভিড় সরে যাচ্ছিল। হামলায় আহত ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে; তবে আশার কথা হলো, কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মেগা এই আসর ঘিরে কানসাস সিটির নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আগে থেকেই বেশ আলোচনা চলছিল। ঘটনাটি ঘটার মাত্র দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবারই কানসাস সিটি বোর্ড অব পুলিশ কমিশনার্স বিশ্বকাপ নিরাপত্তার জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ফেডারেল অনুদান অনুমোদন করেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে শুধু এই একটি শহরেই প্রায় সাড়ে ওয়ান চার লক্ষ (৬ লাখ ৫০ হাজার) দর্শকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিপুলসংখ্যক পর্যটক, দল ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এমনিতেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা সেই চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দিল।
এদিকে কোচ টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল বর্তমানে ফ্লোরিডায় তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। শনিবার ট্যাম্পায় নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
আগামী বুধবার অরল্যান্ডোর ‘ইন্টারঅ্যান্ডকো স্টেডিয়ামে’ কোস্টারিকার বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আগামী ১৩ জুন কানসাস সিটিতে নোঙর ফেলার কথা রয়েছে হ্যারি কেইনদের। উল্লেখ্য, কানসাস সিটিতে শুধু ইংল্যান্ড নয়; বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডস দলও তাদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করবে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে এমন ঘটনা বিশ্বমঞ্চে দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।
